Jemima Spence fifty leads Surrey to victory: ভাইটালিটি ব্লাস্টে সারের দাপুটে জয়
ভাইটালিটি ব্লাস্টের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে সারে দল তাদের প্রথম পরাজয়ের পর শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করে এসেক্সকে কিয়া ওভালে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মূল স্থপতি ছিলেন জেমাইমা স্পেন্স, যিনি পরপর দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন সারে এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, যা তাদের শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে নতুন করে জ্বালানি জুগিয়েছে। জেমাইমা স্পেন্সের ৫২ রানের ঝলমলে ইনিংসটি ছিল এই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট, যেখানে তিনি চাপের মুখে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন।
এসেক্সের ইনিংস: গ্রেস স্ক্রিভেন্সের একাকী লড়াই
টস জিতে ফিল্ডিং করার সারের সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে ভুল বলে মনে হয়েছিল, কারণ এসেক্সের অধিনায়ক গ্রেস স্ক্রিভেন্স ব্যাট হাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বেথান মাইলসের উপর চড়াও হয়ে স্ক্রিভেন্স চারটি বাউন্ডারি হাঁকান, যার ফলে ১৯ রান আসে। এটি এসেক্সকে একটি শক্তিশালী সূচনা এনে দেয়। কিন্তু সারের বোলাররা দ্রুতই খেলায় ফিরে আসে। স্ক্রিভেন্স তার চিরাচরিত অনবদ্য শটে সাবলীলভাবে রান তুলছিলেন, তবে কালিয়া মুরের সরাসরি থ্রোতে নন-স্ট্রাইকারের স্টাম্প ভেঙে যায় এবং লিসি ম্যাকলিওড রান আউট হয়ে ফিরে যান। ২৩ বলে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে, যা এসেক্সের রানের গতিতে প্রথম বড় ধাক্কা ছিল।
এরপর সারের বোলাররা এসেক্সের রান তোলার গতি কমানোর চেষ্টা করে। অ্যালিস মোনাগানের তিনটি টাইট ওভার এসেক্সের ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। স্ক্রিভেন্স তখনো এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন, তবে অন্য প্রান্তে উইকেট পতন অব্যাহত থাকে। অ্যালিস ডেভিডসন-রিচার্ডস, যার প্রথম দুটি বলেই স্ক্রিভেন্স পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরেছিলেন, একটি ফুল টস বলে লিবার্টি হিপকে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলতে বাধ্য করে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। জودي গ্রুকক ১৯ বলে ১৯ রান করে সেট হয়ে উঠছিলেন, কিন্তু স্ক্রিভেন্সের সাথে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গেল নিতে গিয়ে তিনিও রান আউট হয়ে যান। এই রান আউটটি এসেক্সের ইনিংসের মোমেন্টাম নষ্ট করে দেয় এবং তারা আর কখনই সেই গতি ফিরে পায়নি।
শেষের দিকে রায়ানা ম্যাকডোনাল্ড-গে (১ উইকেট ২৩ রানে) পেনাল্টিমেট ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে জো গার্ডনারের উইকেট নেন। ইনিংসের শেষ ওভারে কালিয়া মুর তার ঘূর্ণি জাদু দেখান, পরপর দুটি বলে ফ্লো মিলার এবং সোফিয়া স্মেলকে বোল্ড করে এসেক্সকে ১৫০ রানের নিচে আটকে রাখতে সাহায্য করেন। গ্রেস স্ক্রিভেন্স অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়ে ৬৩ বলে ৮৫ রান করে অপরাজিত থাকলেও, অন্য প্রান্তে সঙ্গীর অভাবে এসেক্স ১৪৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি। কালিয়া মুরের ১৯ রানে দুটি উইকেট, বিশেষ করে শেষ ওভারের জোড়া সাফল্য, সারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
সারের রান তাড়া: স্পেন্সের অবিচল নেতৃত্ব
১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সারের শুরুটা মোটেই ভালো ছিল না। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মাত্র ২৪ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে তারা চাপে পড়ে যায়। ব্রায়নি স্মিথ সোফি মুনরোর বলে কভারে ধরা পড়েন এবং কিরা চাথলি ইভা গ্রের (২২ রানে ২ উইকেট) বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান। এরপর পেইজ স্কলফিল্ড কিছুটা বিপজ্জনক দেখাচ্ছিলেন, কিন্তু জডি গ্রুককের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে তিনিও প্যাভিলিয়নে ফেরেন। স্কোরবোর্ডে যখন রান কম এবং উইকেট পড়ছে, তখন জেমাইমা স্পেন্স ক্রিজে এসে হাল ধরেন।
স্পেন্স দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন এবং এসেক্সের বোলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। স্ক্রিভেন্সের বলে পরপর দুটি বাউন্ডারি হাঁকান, যার মধ্যে একটি ছিল রিভার্স সুইপ এবং অন্যটি প্যাডেল শট। এই শটগুলো তার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ১৫ রানে লিবার্টি হিপের হাতে একটি কঠিন ক্যাচ ফস্কে যাওয়ায় তিনি জীবন পান, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি মুহূর্ত ছিল। এই সুযোগ পেয়ে স্পেন্স আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং তার রিভার্স সুইপ শটগুলো কাজে লাগাতে থাকেন।
অ্যালিস মোনাগানের (১৮ বলে ১৯) সাথে তার ৫১ রানের জুটিটি ছিল সারের ইনিংসের মেরুদণ্ড। এই জুটি মাত্র ছয় ওভারের মধ্যে গঠিত হয়েছিল এবং দলকে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যায়। সোফি মুনরোর (৩০ রানে ২ উইকেট) বলে মিডউইকেট দিয়ে একটি আত্মবিশ্বাসী ফ্লিক করে স্পেন্স তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন। যদিও মুনরো পরের দুই বলের মধ্যেই তাকে বোল্ড করে প্রতিশোধ নেন, ততক্ষণে স্পেন্স তার কাজ করে ফেলেছেন। ৫২ রান করে স্পেন্স যখন আউট হন, তখন সারের জয় প্রায় নিশ্চিত।
এরপর লরা হ্যারিস ১৮ বলে ২৯ রানের দ্রুতগতির একটি অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তিনি কোনো ভুল না করে দলকে জয় এনে দেন এবং সারে পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই ২.২ ওভার বাকি থাকতে লক্ষ্য পূরণ করে। এই জয় সারে দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে তাদের প্রথম পরাজয়ের পর মনোবল ফিরিয়ে আনার জন্য। জেমাইমা স্পেন্সের এই অবিস্মরণীয় পারফরম্যান্সই দলকে এই কঠিন ম্যাচটি জিততে সাহায্য করেছে, যা তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে সারে
এই জয়ের মাধ্যমে সারে ভাইটালিটি ব্লাস্টের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তারা তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। অন্যদিকে, এসেক্স এই পরাজয়ের ফলে টানা তিনটি জয়ের ধারা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। জেমাইমা স্পেন্সের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং সারের সম্মিলিত প্রচেষ্টা তাদের এই মৌসুমে একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে তুলে ধরেছে। কিয়া ওভালের দর্শকরা একটি দুর্দান্ত ক্রিকেট ম্যাচের সাক্ষী থাকল, যেখানে শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জয়লাভ করলো।