Mahidul Islam Ankon century leads Abahani to 173-run DPL victory
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর দাপট
ঈদ-উল-ফিতরের দীর্ঘ বিরতি শেষে মাঠে গড়িয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। টুর্নামেন্টের অষ্টম রাউন্ডে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৭৩ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। এই ম্যাচে মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ব্যাটার মহিদুল ইসলাম অঙ্কন, যার অনবদ্য সেঞ্চুরি দলকে এক বিশাল সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
বিকেএসপিতে আবাহনীর ব্যাটিং তাণ্ডব
সাভারের বিকেএসপি ৪ নম্বর গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আবাহনী লিমিটেড। অধিনায়কের এই সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। নির্ধারিত ৫০ ওভারে আবাহনী ৫ উইকেট হারিয়ে ৩১৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়। ইনিংসের শুরুটা ভালো হলেও পুরো ইনিংসজুড়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন মহিদুল ইসলাম অঙ্কন। তিনি ৯৫ বলে ১০২ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন। যদিও দলের অন্য কোনো ব্যাটার অর্ধশতকের দেখা পাননি, তবুও ছোট ছোট কিন্তু কার্যকরী ইনিংসগুলো আবাহনীকে বড় স্কোরে নিয়ে যায়। সাব্বির হোসেন ৪৪ বলে ৪৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন এবং মোসাদ্দেক হোসেন ৩৪ বলে ৪৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। ইনিংসের শেষ দিকে মাহফুজুর রহমান রাব্বি মাত্র ৮ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের রান ৩০০ পার করতে সাহায্য করেন।
গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের অসহায় আত্মসমর্পণ
৩১৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব শুরুটা মন্দ করেনি। ওপেনার রহমত আলী এবং আলিফ হাসান ইমন প্রথম উইকেটে ৪৫ রান যোগ করেন। তবে দলীয় ৪৫ রানের মাথায় এই দুই ব্যাটারের বিদায়ের পর থেকেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে গুলশানের ব্যাটিং লাইনআপ। ওপেনার আলিফ ইমন ১২ বলে ১৪ রান এবং রহমত আলী ২৫ বলে ৩০ রান করে বিদায় নেন। তাদের পতনের পর দলের মিডল অর্ডারের কেউই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারেননি। শেষ দিকে আব্দুর রহিম ২১ বলে ২০ রান এবং আবির ২৫ বলে ১৫ রানের ছোট ছোট প্রচেষ্টা চালালেও, তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। মাত্র ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় গুলশানের ইনিংস।
বোলিংয়ে আবাহনীর আধিপত্য
ব্যাট হাতে অঙ্কনের সেঞ্চুরির পর বল হাতে আবাহনীর বোলাররাও ছিলেন সমান বিধ্বংসী। গুলশানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে মূল ভূমিকা রাখেন নাইমুর রহমান, যিনি একাই শিকার করেন ৩টি উইকেট। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন রাকিবুল হাসান এবং এসএম মেহেরব, যারা প্রত্যেকে দুটি করে উইকেট দখল করেন। এছাড়া ইকবাল হোসেন ইমন এবং মোসাদ্দেক হোসেন একটি করে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন। এই দাপুটে জয়ের ফলে ডিপিএলের পয়েন্ট টেবিলে আবাহনী নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল।
টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট
ডিপিএলের মতো প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে এই ধরনের জয় দলের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। আবাহনী লিমিটেড নিয়মিত বিরতিতে নিজেদের পেশাদারিত্ব এবং শক্তির প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে। মহিদুল ইসলাম অঙ্কনের এই ইনিংসটি শুধুমাত্র একটি জয় এনে দেয়নি, বরং টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর জন্য আবাহনীকে ফেবারিট হিসেবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। আগামী ম্যাচগুলোতেও তারা একই রকম ফর্ম বজায় রাখতে চাইবে। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন ডিপিএলের পরবর্তী রাউন্ডগুলোর দিকে, যেখানে প্রতিযোগিতার উত্তাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।