Mohammad Ashraful explains why Bangladesh are improving
বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিবর্তনের হাওয়া
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক সময়ে অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো তিন ফরম্যাটের জন্য আলাদা অধিনায়ক নিয়োগের সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) টেস্টের জন্য নাজমুল হোসেন শান্ত, ওয়ানডের জন্য মেহেদী হাসান মিরাজ এবং টি-টোয়েন্টির জন্য লিটন দাসকে দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করেছে। জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ এবং সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল মনে করেন, এই সাহসী সিদ্ধান্তটি দলের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে যাচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গুরুত্ব
বিসিবি’র এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আশরাফুল বলেন, তিন অধিনায়ক এখন দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে দল সাজানোর সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মিত নেতৃত্বের পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধার সৃষ্টি করে। কিন্তু বর্তমানের এই কাঠামোটি খেলোয়াড়দের একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ দিচ্ছে। মিরাজকে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ, শান্তকে বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র এবং লিটনকে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি তাদের সুদূরপ্রসারী চিন্তা করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
অভিজ্ঞতার সমন্বয়
আশরাফুলের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের জন্য অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ। দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার স্তর আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, যা পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি মনে করেন, সিনিয়র ক্রিকেটাররা যখন দলের হাল ধরেন, তখন তরুণরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
ড্রেসিংরুমের মিথ বনাম বাস্তবতা
ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে প্রায়ই নানারকম গুঞ্জন শোনা যায়। দলের ভেতর কোন্দল বা কোচিং স্টাফের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কথা শোনা গেলেও, আশরাফুলের দাবি ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আমি ১৩ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছি এবং বর্তমান ড্রেসিংরুমের পরিবেশ আমার খেলার সময়ের চেয়ে খুব একটা আলাদা নয়।’
- ইতিবাচক পরিবেশ: গত সাত মাস ধরে ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে আসছে, ফলে দলের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে নেতিবাচক আলোচনাও কমেছে।
- পারস্পরিক সহযোগিতা: কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা একে অপরকে উন্নত করতে সবসময় চাপ প্রয়োগ করছেন, যা পারফরম্যান্সের মান বাড়াচ্ছে।
- সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা: আশরাফুল উল্লেখ করেন, তিনি যখন আকরাম খান বা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতো কিংবদন্তিদের সাথে খেলেছেন, তখন যে ধরণের পেশাদারিত্ব ও বন্ধুত্ব ছিল, আজও ড্রেসিংরুমে ঠিক একই পরিবেশ বিদ্যমান।
ভবিষ্যতের পথচলা
আশরাফুল মনে করেন, শুধু জয়-পরাজয় দিয়ে দলের পরিবেশ বিচার করা ঠিক নয়। ভালো ফলাফল করলে পরিবেশ এমনিতেই ভালো মনে হয়, কিন্তু দলের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত শৃঙ্খলার ওপর। তিনি বিশ্বাস করেন, বিসিবি যদি এই নেতৃত্ব কাঠামো এবং বর্তমান ড্রেসিংরুমের ইতিবাচক সংস্কৃতি বজায় রাখতে পারে, তবে বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
সবশেষে, মোহাম্মদ আশরাফুল দলের সাম্প্রতিক উন্নতির পেছনে মূলত তিনটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন: অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের উপস্থিতি, স্থিতিশীল দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্ব এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক কিন্তু ইতিবাচক ড্রেসিংরুম সংস্কৃতি। এই ভিত্তিগুলোই বাংলাদেশকে সামনের দিনগুলোতে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে তিনি মনে করেন।