NZ toast Gay wicket after Conway and Nicholls coax Latham into review
ম্যাচের মোড় ঘোরানো সেই সিদ্ধান্ত
ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্রিকেট বিশ্ব সাক্ষী হলো এক নাটকীয় মুহূর্তের। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথাম প্রথমে রিভিউ নিতে একেবারেই আগ্রহী ছিলেন না, কিন্তু সতীর্থ ডেভন কনওয়ে এবং হেনরি নিকোলসের জোরদার দাবিতে তিনি শেষ পর্যন্ত রিভিউ নিতে বাধ্য হন। আর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই এমিলিও গে-র মূল্যবান উইকেটটি পকেটে ভরে কিউইরা ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
উইকেটের পেছনের গল্প
এমিলিও গে তখন দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। উইল ও’রোরকের বলে পুল শট খেলে তিনি ১১২ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেছিলেন। ঠিক সেই সময়ই একটি বাউন্সার মোকাবিলা করতে গিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন তিনি। তার ব্যাট থেকে হাত আলগা হয়ে যায় এবং বলটি ব্যাটের কানায় লেগেছে কি না, তা নিয়ে ফিল্ডারদের মধ্যে তীব্র সংশয় দেখা দেয়। বোলিং প্রান্তে থাকা ও’রোরক কোনো আবেদন না করলেও কিপার টম ব্লান্ডেল এবং স্লিপে থাকা ড্যারিল মিচেল কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।
অধিনায়কের দ্বিধা এবং সতীর্থদের দৃঢ়তা
দ্বিতীয় স্লিপে থাকা ল্যাথাম ঘটনাটি ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি। তবে থার্ড স্লিপে থাকা হেনরি নিকোলস এবং গালিতে থাকা ডেভন কনওয়ে নিশ্চিত ছিলেন যে তারা একটি শব্দ শুনেছেন, যা ব্যাট এবং বলের স্পর্শ ছাড়া অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়। তাদের অটল বিশ্বাসের কাছে হার মেনে ল্যাথাম রিভিউ নেন। আল্ট্রা-এজ (UltraEdge) প্রযুক্তি যখন নিশ্চিত করে যে বলটি ব্যাটের কানায় লেগেছিল, তখন নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়দের উল্লাস ছিল দেখার মতো।
ম্যাচে প্রভাব
এমিলিও গে-র এই বিদায় ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামায়। এর পরপরই জো রুট এবং হ্যারি ব্রুকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয়। গ্লেন ফিলিপস এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘ডেভই মূলত রিভিউ নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি জোরাজুরি করেছিল। আমরা একটি স্পষ্ট আওয়াজ শুনেছিলাম। ছেলেরা যারা লাইনে ছিল, তারা দেখেছিল যে বলটি গ্লাভসের খুব কাছাকাছি ছিল। ঝুঁকিটা নেওয়া সার্থক হয়েছে।’
ব্যক্তিগত হতাশা প্রকাশ করলেন এমিলিও গে
নিজের উইকেট নিয়ে এমিলিও গে পরবর্তীতে গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। লর্ডসে টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকানোর পর ওভালেও তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার আউট হওয়ার ধরনে অত্যন্ত হতাশ। ভালো একটি শট খেলার পর এঙ্গেল পরিবর্তন হওয়ার কারণে বলটি আমি ঠিকমতো বুঝতে পারিনি। ৫০ রানে পৌঁছানোর পর ইনিংসটি বড় করতে না পারাটা দলের জন্য কষ্টের। এখন আমার লক্ষ্য দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো কিছু করা।’
টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে টেস্ট ক্রিকেটে ফিল্ডারদের সজাগ দৃষ্টি এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের গুরুত্ব কতখানি। প্রযুক্তির সাহায্য থাকলেও অনেক সময় ফিল্ডারদের অন্তর্দৃষ্টি এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাসই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। নিউজিল্যান্ড দলের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা তাদের ওভালের এই ম্যাচে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে এই ধাক্কা সামলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।
উপসংহার
NZ toast Gay wicket after Conway and Nicholls coax Latham into review—এই ঘটনাটি সম্ভবত এবারের সিরিজের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। কনওয়ে এবং নিকোলসের তীক্ষ্ণ শ্রবণশক্তি এবং ল্যাথামের সতীর্থদের ওপর আস্থা রাখা নিউজিল্যান্ডের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন এই টেস্টের পরবর্তী রোমাঞ্চকর দিনের জন্য।