Rajat Patidar opens up on gameplan against Gujarat Titans in IPL 2026 Qualifier 1
আইপিএল ২০২৬: বড় ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী আরসিবি অধিনায়ক
আইপিএল ২০২৬-এর উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। কোয়ালিফায়ার ১ ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) মুখোমুখি হতে চলেছে গুজরাট টাইটানসের। এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে আরসিবি অধিনায়ক রজত পাটিদার দলের বোলিং শক্তি এবং রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের টুর্নামেন্টে আরসিবির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো তাদের শক্তিশালী পেস বোলিং আক্রমণ।
আক্রমণই সেরা রক্ষণ
হিমাচল প্রদেশে আয়োজিত প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে রজত পাটিদার স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তারা রক্ষণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামবেন না। বরং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছেন তারা। পাটিদার বলেন, ‘আমাদের শক্তি হলো বোলিং। পাওয়ার প্লে-তে আমরা যেভাবে বোলিং করি, সেটাই এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। আমরা এখানে ডিফেন্ড করার জন্য আসিনি, বরং আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলছি। আমাদের লক্ষ্য দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়া।’
ভুবনেশ্বর কুমারের বিধ্বংসী ফর্ম
চলতি মৌসুমে ভুবনেশ্বর কুমার আরসিবির হয়ে বল হাতে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। ১৪টি ম্যাচে তিনি ২৪টি উইকেট সংগ্রহ করেছেন। বিশেষ করে পাওয়ার প্লে-তে তিনি ব্যাটারদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মৌসুমে তিনি ৯ জন ওপেনারকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন। সাই সুদর্শন, পথুম নিশাঙ্কা, রায়ান রিকেলটন এবং প্রিয়ানশ আর্যর মতো ব্যাটাররা তার সুইংয়ের সামনে পরাস্ত হয়েছেন। এছাড়া শুভমন গিল এবং রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারদেরও তিনি চাপে রেখেছেন।
অন্যান্য পেসারদের ভূমিকা
ভুবনেশ্বরের পাশাপাশি জোশ হ্যাজেলউড এবং রাসিখ সালাম আরসিবির বোলিং লাইনআপের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। জোশ হ্যাজেলউড ১১ ম্যাচে ১২টি উইকেট নিয়েছেন। অন্যদিকে, উদীয়মান পেসার রাসিখ সালাম ১০ ম্যাচে ১৪টি উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন। এইডেন মার্করাম এবং ট্রাভিস হেডের মতো ব্যাটারদের উইকেট নিয়ে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন। নিকোলাস পুরান এবং ঈশান কিষাণের মতো ব্যাটাররাও তার গতির সামনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি।
ফাইনালের হাতছানি
কোয়ালিফায়ার ১-এর গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে আরসিবি অধিনায়ক জানান, ‘কোয়ালিফায়ার ১ জিতলে সরাসরি ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। তবে আমাদের শিবিরে ফাইনাল নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা হচ্ছে না। মরসুমের শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রতিটি ম্যাচ জেতা। যদি আমরা আজকের ম্যাচে জয়ী হই, তাহলে ফাইনালের আগে দল অনেকটা বিশ্রামের সময় পাবে, যা এই দীর্ঘ টুর্নামেন্টে অত্যন্ত জরুরি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আরসিবি ম্যানেজমেন্টের মতে, একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তিই তাদের সাফল্যের মূল কারণ। ভুবনেশ্বর, হ্যাজেলউড এবং রাসিখ সালাম যে ছন্দে রয়েছেন, তা বজায় রাখাটাই এখন দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। গুজরাট টাইটানসের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিরুদ্ধে আরসিবির এই বোলিং ইউনিট কেমন পারফর্ম করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তরা আশা করছেন, রজত পাটিদারের নেতৃত্বে বেঙ্গালুরু এই ম্যাচে জয়লাভ করে সরাসরি ফাইনালে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করবে এবং শিরোপার দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। ৩০ মে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের কথা মাথায় রেখে আরসিবি শিবির এখন জয়ের লক্ষ্যেই অবিচল।