Shubman Gill, Sai Sudharsan Placed In Virat Kohli, AB de Villiers’ League By CSK
সুরেশ রায়নার চোখে আইপিএলের শ্রেষ্ঠ জুটি
আইপিএলের মঞ্চে অনেক কিংবদন্তি জুটি দেখা গিয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এবং পারফরম্যান্সের বিচারে গুজরাট টাইটান্সের ওপেনিং জুটি শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শন সবাইকে চমকে দিয়েছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের কিংবদন্তি সুরেশ রায়না সম্প্রতি এই তরুণ জুটিকে সরাসরি বিরাট কোহলি এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো কিংবদন্তিদের সারিতে বসিয়েছেন। সুরেশ রায়নার মতে, Shubman Gill, Sai Sudharsan Placed In Virat Kohli, AB de Villiers’ League By CSK লিজেন্ডের স্বীকৃতি পাওয়ার অর্থ এই যে তারা আধুনিক ক্রিকেটে এক নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছেন।
গুজরাট টাইটান্সের হয়ে এই জুটি মাঠের ভেতরে যে প্রভাব ফেলেছে তা সত্যিই অতুলনীয়। সুরেশ রায়না জিও-হটস্টারের ‘চ্যাম্পিয়নস ওয়ালি কমেন্ট্রি’ অনুষ্ঠানে এই দুই ব্যাটসম্যানের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, “শুভমান গিল এবং সাই সুদর্শন আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাটিং জুটি। তারা মাত্র ৪৬ ইনিংসে একসাথে ২১ বার পঞ্চাশোর্ধ রানের পার্টনারশিপ গড়েছেন। এই রেকর্ড আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম।”
পরিসংখ্যান কি বলছে?
সুরেশ রায়নার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গিল এবং সাই সুদর্শন কেবল ভালো খেলছেন তা নয়, বরং তারা অত্যন্ত কার্যকর। তাদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
- মাত্র ৪৬ ইনিংসে ২১ বার ৫০-এর বেশি রানের জুটি।
- ক্রিস গেইল এবং বিরাট কোহলির মতো জুটিকেও তারা এই রেকর্ডে ছাড়িয়ে গেছেন (যারা ৫৯ ইনিংসে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিল)।
- এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং কোহলিদের এই রেকর্ডে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল ৭৬ ইনিংস।
- গিল এবং সাইয়ের ব্যাটিং গড় ৬৬-এর উপরে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য।
রায়না আরও যোগ করেছেন, “গিল এবং সাই সুদর্শন একে অপরের পরিপূরক। একজন যখন বোলারদের গতিকে কাজে লাগান, অন্যজন মাঠের কোণকে ব্যবহার করে রান বের করেন। তাদের ফিটনেস এবং গেম অ্যাওয়ারনেস অতুলনীয়।”
কোিহলি-ডি ভিলিয়ার্স বনাম গিল-সুদর্শন: একটি তুলনামূলক আলোচনা
যদিও গিল এবং সাই সুদর্শন আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রাজত্ব করছেন, তবুও বিরাট কোহলি এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের অবদানকে অস্বীকার করার উপায় নেই। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে এই কিংবদন্তি জুটি দীর্ঘ সময় ধরে আইপিএলে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোহলি এবং ডি ভিলিয়ার্স একসাথে ৩১২৩ রান করেছিলেন ৭৬ ইনিংসে, যেখানে তাদের গড় ছিল ৪৩.৯৮।
বর্তমান যুগের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে যেখানে ব্যাটিং অনেক বেশি আগ্রাসী, সেখানে গিল এবং সাই সুদর্শন যেভাবে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে কোহলি এবং ডি ভিলিয়ার্সের সেই ক্লাসিক্যাল ব্যাটিং শৈলী এবং ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা এখনো অনেকের কাছেই আইপিএলের সেরা স্মৃতি হয়ে আছে।
কেন এই জুটি আইপিএলে সফল?
গুজরাট টাইটান্সের এই ওপেনিং জুটির সাফল্যের মূল রহস্য হলো তাদের ধারাবাহিকতা। তারা উইকেটে সেট হওয়ার সময় নেন, কিন্তু ডট বলের পরিমাণ কমিয়ে রাখেন। সঠিক বোলার নির্বাচন এবং পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আক্রমণাত্মক হওয়ার ক্ষমতা তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তারা ইতিমধ্যে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০টি সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ গড়েছেন, যা কোনো ওপেনিং জুটির জন্য এক অভাবনীয় নজির।
পরিশেষে, গিল এবং সুদর্শন যেভাবে পারফর্ম করছেন, তাতে এটা বলাই যায় যে আইপিএলের আগামী দিনে তারা আরও অনেক রেকর্ড ভাঙবেন। সুরেশ রায়নার মতো একজন লিজেন্ড যখন তাদের কোহলি এবং ডি ভিলিয়ার্সের সাথে তুলনা করেন, তখন তা তাদের পরিশ্রম এবং প্রতিভারই এক বড় স্বীকৃতি। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন আইপিএল ২০২৬-এর পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে, যেখানে এই জুটি নতুন কোনো জাদু দেখাতে পারে কি না!