Report

দক্ষিণ আফ্রিকা এ এর পেসাররা গ্রেস রোডে ইংল্যান্ড লায়ন্সকে উড়িয়ে দিল: একপেশে জয় – South Africa A quicks steamroll England Lions at Grace Road

Avatar photo Krish Nair · · 1 min read

লেস্টারের গ্রেস রোডে অনুষ্ঠিত ৫০ ওভারের ম্যাচে ইংল্যান্ড লায়ন্সকে নয় উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল। ইংল্যান্ড লায়ন্স প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল এই সহজ লক্ষ্য ১৯.৩ ওভারেই টপকে যায়, যা তাদের বোলিং আক্রমণের দাপট এবং ব্যাটিংয়ের দৃঢ়তা তুলে ধরে। এটি ছিল ইংল্যান্ড লায়ন্সের ৫০ ওভারের সিরিজের প্রথম ম্যাচ, এবং এমন পরাজয় নিঃসন্দেহে দলের মনোবলকে আঘাত করবে।

ইংল্যান্ড লায়ন্সের ব্যাটিং বিপর্যয়

ম্যাচের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড লায়ন্স দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের পেসারদের সামনে হিমশিম খেতে থাকে। সফরকারী দলের আক্রমণাত্মক বোলিং এবং নিখুঁত লাইন-লেন্থের সামনে দাঁড়াতে পারেননি লায়ন্সের ব্যাটসম্যানরা। জেমস কোল্স, যিনি ৪২ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন, তিনিই মাত্র তিনজন লায়ন্স ব্যাটসম্যানের একজন যিনি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। এটি তাদের ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা এবং প্রতিপক্ষ বোলিংয়ের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ।

ম্যাচের অষ্টম ওভার শেষ হওয়ার আগেই লায়ন্স ৫০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল, যা তাদের ইনিংসের পতনের সূচনা করে। দলের ওপেনিং জুটি থেকে শুরু করে মধ্যভাগ পর্যন্ত কোনো ব্যাটসম্যানই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারেননি। আইপিএল থেকে ফিরে আসা অধিনায়ক জর্ডান কক্স দ্রুত ২০ রান করলেও, তিনি তার ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। তার আট বলে করা ২০ রান ছিল দ্রুতগতির হলেও, দলের প্রয়োজনের তুলনায় তা অপর্যাপ্ত ছিল।

পেস আক্রমণের দাপট

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের পেস আক্রমণ ছিল অপ্রতিরোধ্য। জেরাল্ড কোয়েটজি এবং অটনিয়েল বার্টম্যান দুজনেই তিনটি করে উইকেট শিকার করে ইংল্যান্ড লায়ন্সের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। তাদের সুপরিকল্পিত আক্রমণ এবং গতিময় বোলিং লায়ন্সের ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কোয়েটজি বিশেষ করে জেমস রিউকে (৬) আউট করেন, যিনি টেস্ট স্কোয়াড থেকে লায়ন্সের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। রিউ কোয়েটজির বলে স্টাম্পে ড্রাইভ করে আউট হন, যা তার আত্মবিশ্বাসের অভাব নির্দেশ করে।

বেন ম্যাককিনি কোয়েনা মাপাখার বলে ব্যাট চালানোর চেষ্টা করে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন। মাপাখা, যিনি তার গতি এবং সুইং দিয়ে প্রভাবিত করেছেন, তিনিই এসে ট্রাইবকে ডিপ থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। ট্রাইব আগের রাতে গ্ল্যামারগানকে ভাইটালিটি ব্লাস্টে সমারসেটের বিরুদ্ধে জয় পেতে সাহায্য করেছিলেন, কিন্তু এই ম্যাচে তিনি তার ফর্ম ধরে রাখতে পারেননি। অধিনায়ক জর্ডান কক্স কোয়েটজির একটি ভালো বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। টেস্ট স্কোয়াড থেকে আসা রেহান আহমেদও মাত্র পাঁচ রান করে বার্টম্যানের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন, যা লায়ন্সের ব্যাটিংয়ের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

একমাত্র প্রতিরোধ: কোল্স ও ক্রোকম্বে

ইংল্যান্ড লায়ন্সের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি ছিল সাসেক্সের দুই খেলোয়াড় জেমস কোল্স এবং হেনরি ক্রোকম্বের মধ্যে। তারা নবম উইকেটে ৩১ রান যোগ করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। কোল্স, যিনি শুরু থেকেই একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন ৪২ রান করে। তিনি যখন ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে আউট হন, তখন লায়ন্সের সংগ্রহ মাত্র ১১৯। এই ছোট জুটিটি না হলে লায়ন্সের স্কোর আরও কম হতে পারত।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ এর সহজ জয়

মাত্র ১১৯ রানের লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জই ছিল না। তাদের ওপেনার রুবিন হারম্যান ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন এবং অধিনায়ক মার্কাস অ্যাকারম্যান ৩৪ রান করে তাকে সঙ্গ দেন। হারম্যান তার ইনিংসটি সাবধানে শুরু করলেও, দ্রুত রান তোলার গতি বাড়ান এবং দলকে সহজে জয়ের দিকে নিয়ে যান।

দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল মাত্র ১৯.৩ ওভারেই প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয়, যা তাদের দুর্দান্ত ফর্ম এবং ব্যাটিংয়ের গভীরতার ইঙ্গিত দেয়। হেনরি ক্রোকম্ব দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের একমাত্র উইকেটটি তুলে নেন, যখন তিনি বাঁহাতি টনি ডি জোর্জিকে ব্যাট ও প্যাডের মাঝখান দিয়ে বোল্ড করেন। এটি ছিল লায়ন্সের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা।

সিরিজের পরবর্তী ধাপ

এই ফলাফল দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলকে ৫০ ওভারের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে নিয়ে গেল। এর আগে, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল দুই ম্যাচের চার দিনের সিরিজও ২-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল, যা তাদের ইংল্যান্ড সফরে দারুণ পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত দেয়। ৫০ ওভারের সিরিজ রবিবার নিউ রোডে পুনরায় শুরু হবে, যেখানে বাকি দুটি ম্যাচ খেলা হবে। ইংল্যান্ড লায়ন্সের সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে এই পরাজয় ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর, যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের দাপট তাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা তৈরি করবে। এই ম্যাচটি প্রমাণ করেছে যে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল একটি শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত ইউনিট, যারা ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদের প্রতিভা প্রমাণ করতে বদ্ধপরিকর।

Share
Avatar photo
Krish Nair

Krish Nair is a cricket historian and analyst with expertise in IPL records, international cricket milestones, and long-term statistical trends within the sport.