Vaibhav Sooryavanshi Blamed For Yashasvi Jaiswal’s IPL 2026 Failure
রাজস্থান রয়্যালসের নতুন সমীকরণ ও বিতর্কের সূত্রপাত
আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামে রাজস্থান রয়্যালস যখন মাত্র ১৩ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশীকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন ক্রিকেট বিশ্বে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কিন্তু সেই বাজি যে কতটা কার্যকর ছিল, তা বৈভব মাঠেই প্রমাণ করেছেন। প্রথম সিজনেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের আগমনী বার্তা জানান দেওয়া এই তরুণ ২০২৬ সালেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। তবে তার এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের ছায়ায় কি ঢাকা পড়ে যাচ্ছেন যশ্বসী জয়সওয়াল? অনেকেই মনে করছেন, বৈভবের দাপটই জয়সওয়ালের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
যশ্বসী জয়সওয়ালের আইপিএল ২০২৬: একটি আক্ষেপের মরসুম
রাজস্থান রয়্যালস প্লে-অফে জায়গা করে নিলেও, যশ্বসী জয়সওয়ালের জন্য এবারের আইপিএল খুব একটা সুখকর ছিল না। ১৪টি ম্যাচে ৩৯৭ রান সংগ্রহ করলেও, তার ব্যাটিংয়ে সেই পুরোনো ছন্দ দেখা যায়নি। স্ট্রাইক রেট এবং গড়ের নিরিখে জয়সওয়াল নিজের উচ্চমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে কিছু ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেললেও, মাঝপথে গিয়ে তার রানের গতি কমে যায় এবং দলের ব্যাটিংয়ের মূল দায়িত্ব এসে পড়ে কিশোর বৈভবের কাঁধে।
আর অশ্বিনের বিস্ফোরক মন্তব্য
ভারতের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার আর অশ্বিন এই পরিস্থিতিতে বৈভব সূর্যবংশীকে সরাসরি দায়ি করেছেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে অশ্বিন বলেন, ‘আমি যশ্বসী জয়সওয়ালের পারফরম্যান্সে কিছুটা অবাক। আমার প্রত্যাশা অনেক বেশি ছিল। আমার মনে হয়, বৈভবের অসাধারণ ব্যাটিং জয়সওয়ালকে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত করেছে। দলের মধ্যে নতুন প্রতিযোগিতার চাপ হয়তো সে নিতে পারছে না।’ অশ্বিনের মতে, বৈভবের নির্ভীক ব্যাটিংয়ের সামনে জয়সওয়াল নিজেকে কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক মনে করছেন, যার ফলে তিনি বড় শট খেলতে গিয়ে বারবার উইকেট দিয়ে আসছেন।
আকাশ চোপড়া ও বীরেন্দ্র শেহওয়াগের ঐতিহাসিক তুলনা
অশ্বিন এই পরিস্থিতিকে ২০০৩-০৪ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরের বীরেন্দ্র শেহওয়াগ ও আকাশ চোপড়ার জুটির সঙ্গে তুলনা করেছেন। অশ্বিনের ভাষায়, ‘আকাশ চোপড়া ভালো শুরু করলেও শেহওয়াগের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পাশে তাকে ম্লান লাগত। ঠিক তেমনই বৈভবের তাণ্ডব জয়সওয়ালকে চাপে ফেলে দিচ্ছে, যার ফলে তিনি তাড়াহুড়ো করে ভুল শট খেলছেন।’
বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান
মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৈভব যে দাপট দেখাচ্ছেন, তা আইপিএলের ইতিহাসে বিরল। ২০২৬ মরসুমে ১৪টি ম্যাচে তিনি ৫শতাধিক রান সংগ্রহ করেছেন, যার স্ট্রাইক রেট ঈর্ষণীয় ২৩২। একটি সেঞ্চুরি এবং তিনটি হাফ সেঞ্চুরির মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বয়সের বাধা তার কাছে কোনো বিষয় নয়। বিপক্ষ বোলারদের কাছে তিনি এখন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
বৈভব কি সত্যিই জয়সওয়ালের পতনের কারণ?
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ অবশ্য এই তত্ত্ব মানতে নারাজ। যশ্বসী জয়সওয়াল ২০২০ সাল থেকে আইপিএলে নিয়মিত খেলছেন এবং তার যথেষ্ট অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার রয়েছে। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছে দলের তরুণ তুর্কীর সাফল্য অনুপ্রেরণা হওয়ার কথা, ব্যর্থতার কারণ নয়। জয়সওয়ালকে বরং নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আরও মানসিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। বৈভবের উন্নতি জয়সওয়ালের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জকে জয় করাই একজন বিশ্বমানের ব্যাটারের পরিচয়। পরিশেষে বলা যায়, জয়সওয়াল ও বৈভব—এই দুই প্রজন্মের ক্রিকেটারের বোঝাপড়া রাজস্থান রয়্যালসের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জয়সওয়াল যদি দ্রুত ফর্মে ফিরতে পারেন, তবে রাজস্থান রয়্যালসের ট্রফি জেতার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হবে।