Watch – Kavya Maran Does ‘Slow Clap’ For Vaibhav Sooryavanshi – আইপিএলে বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য ব্যাটিং, কাব্য মারানের ‘স্লো ক্ল্যাপ’ ভাইরাল
আইপিএলে নতুন বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী
বুধবারের আইপিএল ম্যাচটি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো একটি অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। সৌজন্যে ১৫ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে ব্যাট করতে নেমে তিনি যেভাবে আগ্রাসী ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখালেন, তা দেখে অবাক বিশ্ব ক্রিকেট। অনেকেই তাকে আগামীর বড় তারকা হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করেছেন।
বৈভব সূর্যবংশী যখন ক্রিজে ছিলেন, তখন আইপিএলের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙা সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। ২৮ বলে ৯৭ রান করে ফেলা বৈভব যেভাবে ক্রিস গেইলের ৩০ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিলেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই মাইলফলক থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে যান তিনি।
হৃদয় ভাঙা মুহূর্ত ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ
আউটের পর বৈভবের প্রতিক্রিয়াই বলে দিচ্ছিল তিনি কতটা হতাশ ছিলেন। ক্রিজে বেশ কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই তরুণ। তার চোখেমুখে ছিল আক্ষেপের ছাপ। এক পর্যায়ে তাকে কিছুটা আবেগপ্রবণও দেখিয়েছে, যদিও তিনি নিজেকে সামলে নিয়েছিলেন। ডাগআউটে ফেরার সময় নিজের হেলমেটটি আক্রোশে মাটিতে আছাড় মারতে দেখা যায় তাকে, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় নিজের পারফরম্যান্সে তিনি কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং রেকর্ড গড়ার সুযোগ হারানোর কষ্ট তিনি কতটা অনুভব করছিলেন।
গ্যালারিতে কাব্য মারানের নজরকাড়া প্রতিক্রিয়া
মুল্লানপুর স্টেডিয়ামের দর্শকরা যখন দাঁড়িয়ে বৈভবকে কুর্নিশ জানাচ্ছিলেন, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত কাব্য মারানের ‘স্লো ক্ল্যাপ’ নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। ১৫ বছরের এক কিশোরের এমন সাহসী ক্রিকেটীয় শৈলী দেখে কাব্য মারান যেভাবে প্রশংসা করেছেন, তা ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। ডাগআউটে ফেরার পথে দর্শকদের এই ভালোবাসা তাকে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দিয়েছে।
কেন বৈভবের এই ইনিংসটি অনন্য?
- বয়স ও পরিপক্কতা: মাত্র ১৫ বছর বয়সে আইপিএলের মতো হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্টে এমন ভয়ডরহীন ব্যাটিং সচরাচর দেখা যায় না।
- রেকর্ডের কাছাকাছি: ক্রিস গেইলের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারের রেকর্ড ভাঙার খুব কাছে পৌঁছে যাওয়া একজন উঠতি ক্রিকেটারের জন্য অনেক বড় অর্জন।
- মানসিক দৃঢ়তা: আউট হওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া থেকেই প্রমাণিত হয় যে তিনি কতটা উচ্চাভিলাষী এবং নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য কতটা ক্ষুধার্ত।
ভবিষ্যতের পথচলা
ক্রিকেটবোদ্ধারা মনে করছেন, বৈভব সূর্যবংশীর এই ইনিংসটি কেবল একটি শুরু মাত্র। যে ধরনের টাইমিং এবং পাওয়ার হিটিং ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন, তা তাকে দীর্ঘমেয়াদে বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করবে। রাজস্থান রয়্যালস টিম ম্যানেজমেন্টও তার এই উত্থান নিয়ে বেশ আশাবাদী।
ম্যাচ শেষে বৈভবের এই বীরত্বপূর্ণ ইনিংস নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সবাই একবাক্যে স্বীকার করছেন, ভারতীয় ক্রিকেটে আরেকটি প্রতিভার স্ফুরণ ঘটেছে। তবে এখন দেখার বিষয়, আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলোতে এই তরুণ কীভাবে নিজেকে মেলে ধরেন এবং তার এই আগ্রাসী ব্যাটিংধারা বজায় রাখতে পারেন কি না। ক্রিকেট বিশ্ব এখন বৈভবের পরবর্তী ইনিংসের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছে।