“How Shameless…” Praful Hinge’s Celebration On Vaibhav Sooryavanshi’s Wicket S – আইপিএল ২০২৬: বৈভব সূর্যবংশীর উইকেট নিয়ে প্রফুল্ল হিঙ্গের বিতর্কিত উদযাপন
আইপিএল ২০২৬: মাঠের লড়াইয়ে বৈভব বনাম হিঙ্গে এবং বিতর্কের সূত্রপাত
আইপিএল ২০২৬-এর এলিমিনেটর ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মধ্যকার লড়াইটি ছিল চরম উত্তেজনায় ঠাসা। নিউ চণ্ডীগড়ে আয়োজিত এই ম্যাচে রাজস্থানের তরুণ বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী যেন ব্যাট হাতে এক রূপকথার গল্প লিখছিলেন। তার বিধ্বংসী ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ক্রিস গেইলের ৩০ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ডটি বুঝি আজ ভাঙতে চলেছে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পেসার প্রফুল্ল হিঙ্গে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন এবং এই তরুণ ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিলেন সাজঘরে। এই উইকেট নেওয়ার পর প্রফুল্ল হিঙ্গের অতি-নাটকীয় উদযাপন সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সূর্যবংশীর মাইলফলক থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ
ম্যাচের অষ্টম ওভার শেষে বৈভব সূর্যবংশী বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। গেইলের রেকর্ড ভাঙতে তার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান এবং হাতে ছিল দুটি বল। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রফুল্ল হিঙ্গে একটি শর্ট বল করেন, যা বৈভবের ব্যাটে লেগে আকাশে উঠে যায় এবং আর স্মরণ তা তালুবন্দি করেন। ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের উইকেট পাওয়ার পর বোলার প্রফুল্ল হিঙ্গেকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে উদযাপন করতে দেখা যায়, যা মাঠের পরিস্থিতির তুলনায় কিছুটা অসংগত ছিল। এমন আচরণ দেখে ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
সূর্যবংশী ও হিঙ্গের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ
আইপিএল ২০২৬-এ হায়দ্রাবাদ এবং রাজস্থানের মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় সাক্ষাৎ। আর প্রতিবারই বৈভব সূর্যবংশী ও প্রফুল্ল হিঙ্গের লড়াই ছিল ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ। তাদের এই দ্বৈরথের ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। প্রথম সাক্ষাতে হিঙ্গে বৈভবকে শূন্য রানে আউট করলেও, দ্বিতীয়বার দেখায় বৈভব তার কড়া জবাব দিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে হিঙ্গের এক ওভারে ৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে মোট ৩০ রান তুলেছিলেন তরুণ বৈভব এবং শেষ পর্যন্ত ১০৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। তৃতীয় সাক্ষাতেও বৈভব হিঙ্গের ওপর রীতিমতো আধিপত্য বিস্তার করছিলেন, যেখানে ৬ বলে ২৭ রান তুলে নিয়েছিলেন তিনি। তাদের হেড-টু-হেড পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বৈভব ১৭ বলে ৫৭ রান তুলেছেন এবং হিঙ্গে তাকে দুইবার আউট করেছেন।
রাজস্থানের আধিপত্য এবং দলের পারফরম্যান্স
অষ্টম ওভারে বৈভবের উইকেট পড়ার সময় রাজস্থানের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ১২৫ রান, যার মধ্যে একাই ৯৭ রান করেছিলেন সূর্যবংশী। তার বিদায়ের পর ধ্রুব জুরেল হাল ধরেন এবং ২১ বলে ৫০ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন। অধিনায়ক রিয়ান পরাগও বড় শট খেলার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লাসেনের হাতে ধরা পড়েন। প্রফুল্ল হিঙ্গে তার ৪ ওভারের স্পেলে ৩টি উইকেট শিকার করলেও ৫৪ রান খরচ করেছেন। এটি একটি হাই-স্কোরিং ম্যাচ ছিল যেখানে ১৬ ওভার শেষে রাজস্থানের স্কোর দাঁড়িয়েছিল ২১৫/৪।
ক্রিকেট প্রেমীদের ক্ষোভ
একজন ১৫ বছর বয়সী উঠতি তারকার প্রতি এমন অবমাননাকর উদযাপনকে সাধারণ ক্রিকেট ভক্তরা ভালোভাবে নেননি। অতীতে কাইল জেমিসনের মতো বোলারকেও বৈভবের মুখোমুখি হয়ে এমন আচরণ করতে দেখা গিয়েছিল, যার ফলে বৈভবের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সাথে এমন আচরণ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তদের বক্তব্য, খেলার মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই কিন্তু অহেতুক ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উপহাস কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আইপিএল ২০২৬-এর এই এলিমিনেটর ম্যাচটি একদিকে যেমন বৈভবের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, অন্যদিকে প্রফুল্ল হিঙ্গের এই উদযাপন দীর্ঘ সময় ধরে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। একজন পেশাদার ক্রিকেটারের কাছ থেকে আরও শালীন আচরণের প্রত্যাশা করেন ক্রিকেট প্রেমীরা।