Revealed: Why BCCI Didn’t Punish Virat Kohli For Travis Head Handshake Snub – বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (এসআরএইচ) মধ্যকার সাম্প্রতিক আইপিএল ম্যাচটি মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের কারণে ক্রীড়ামোদীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ম্যাচজুড়ে বিরাট কোহলি এবং ট্র্যাভিস হেডের মধ্যকার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক না করার বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে বড় প্রশ্ন জেগেছে, কেন এই আচরণের জন্য কোহলির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো না?
গত শনিবার রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মুখোমুখি হয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ম্যাচে আরসিবিকে ৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে এসআরএইচ এক দাপুটে জয় তুলে নেয়। তবে এই ম্যাচটি কেবল রানের পাহাড় বা উইকেটের পতনের জন্য নয়, বরং বিরাট কোহলি ও ট্র্যাভিস হেডের মধ্যকার তীব্র দ্বন্দ্বের কারণে খবরের শিরোনামে চলে আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুই তারকার ভক্তদের মধ্যে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। একদল কোহলির আগ্রাসী মনোভাবকে সমর্থন করছেন, অন্যদিকে অন্যদল ট্র্যাভিস হেডের পাশে দাঁড়িয়ে কোহলির আচরণের সমালোচনা করছেন।
বিরাট কোহলি এবং ট্র্যাভিস হেডের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল?
ম্যাচ চলাকালীন এই দুই ক্রিকেটারের মধ্যে চাপা উত্তেজনা তৈরি হতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠের পরিবেশ বেশ উত্তপ্ত ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, শিবং কুমারের প্রথম ওভারের সময় এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে, যখন ভেঙ্কটেশ আইয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে একের পর এক বাউন্ডারি মারছিলেন। এই সময় বিরাট কোহলিকে মিড-উইকেটে ফিল্ডিং করা ট্র্যাভিস হেডের দিকে ইশারা করতে দেখা যায়, যেন তিনি হেডকে এসে বল করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, মাঠের অন্য একটি মুহূর্তে কোহলিকে হাত নেড়ে হেডকে দূরে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত করতেও দেখা গেছে।
পরবর্তীতে ম্যাচের ১৮তম ওভারে ট্র্যাভিস হেড নিজেই বোলিং আক্রমণে আসেন। বল হাতে নিয়েই তিনি বড় ধাক্কা দেন আরসিবির শিবিরে। নিজের মাত্র দ্বিতীয় বলেই আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদারকে আউট করে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন হেড। উইকেট নেওয়ার পর মাঠের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। ইনিংসের শেষের দিকে যখন ফিল্ডিং পজিশন পরিবর্তন হচ্ছিল, তখন কোহলি এবং হেডের মধ্যে আবারও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়। মাঠের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ম্যাচ চলাকালীনই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা ম্যাচের পরেও গড়ায়।
ম্যাচ পরবর্তী হ্যান্ডশেক বিতর্ক এবং ভাইরাল ভিডিও
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যা এই বিতর্ককে আরও উস্কে দেয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রথাগত হ্যান্ডশেকের সময় বিরাট কোহলি ট্র্যাভিস হেডের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন এবং তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছেন। অথচ সেই একই সময়ে কোহলি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, উদীয়মান তারকা অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিষানের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে অত্যন্ত উষ্ণভাবে করমর্দন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। হেডের মতো একজন বিশ্বমানের ব্যাটারকে কোহলি এভাবে এড়িয়ে যাওয়ায় ক্রিকেট ভক্তদের একাংশ ভীষণ ক্ষুব্ধ হন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কোহলির এই আচরণকে অভদ্রতা বলে আখ্যা দেন।
কেন বিসিসিআই কোহলির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি?
সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র সমালোচনা এবং ভক্তদের ক্ষোভের পরেও, বিসিসিআই (BCCI) বা আইপিএল (IPL) কর্তৃপক্ষ বিরাট কোহলির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে না। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত? এর পেছনে রয়েছে ক্রিকেটের কিছু অলিখিত নিয়ম ও সংস্কৃতি।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বিসিসিআইয়ের এক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ক্রিকেটে ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক বা করমর্দন করাকে খেলার অন্যতম সুন্দর একটি শিষ্টাচার বা ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ (Spirit of Cricket) হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এটি আইসিসির কোনো বাধ্যতামূলক বা লিখিত নিয়মের মধ্যে পড়ে না। অর্থাৎ, কোনো খেলোয়াড় যদি ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করেন, তবে তার বিরুদ্ধে নিয়মভঙ্গের কোনো অভিযোগ আনা যায় না এবং এর জন্য কোনো আর্থিক জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধান নেই।
বিসিসিআইয়ের ওই সূত্রটি আরও স্পষ্ট করে বলেছে, “এমনকি ভারত এবং পাকিস্তানের খেলোয়াড়রাও সবসময় ম্যাচ শেষে একে অপরের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেন না।” ফলে হ্যান্ডশেক না করার সাধারণ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
অতীতেও ক্রিকেটে ঘটেছে এমন হ্যান্ডশেক এড়ানোর ঘটনা
ক্রীড়াঙ্গনে হ্যান্ডশেক না করার বা এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাস ঘাটলে এমন আরও অনেক নজির খুঁজে পাওয়া যাবে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের সময় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। দুবাইতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ভারত ৭ উইকেটে জয়লাভ করার পর, ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগার মধ্যে টসের পর বা ম্যাচ শেষে প্রথাগত হ্যান্ডশেক হয়নি বলে জানা যায়। জয়ের পর ভারতীয় দল মাঠের প্রথাগত করমর্দন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই দ্রুত মাঠ ছেড়ে চলে যায়। রাজনৈতিক এবং মাঠের তীব্র বৈরিতার কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে এই ধরনের হ্যান্ডশেক এড়ানোর প্রবণতা বজায় রয়েছে। সুতরাং, মাঠের উত্তেজনা বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে হ্যান্ডশেক না হওয়া ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়।
ক্রিকেটের আবেগ ও মাঠের লড়াই: একটি বিশ্লেষণ
বিরাট কোহলির মতো একজন বৈশ্বিক ক্রিকেট আইকনের কাছ থেকে ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক না করার মতো আচরণ অনেকের কাছেই খেলাধুলার পরিপন্থী বা অনভিপ্রেত মনে হতে পারে। সাধারণ ভক্তদের অনেকেই তার এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং একে অপ্রীতিকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ক্রিকেট কেবল একটি খেলার চেয়েও বেশি কিছু; এটি তীব্র আবেগ, উত্তেজনা এবং জেদের খেলা। বিশেষ করে আইপিএলের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং হাই-প্রেসার টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ থাকে আকাশচুম্বী।
মাঠের ভেতরের স্লেজিং বা উত্তপ্ত মুহূর্তগুলো অনেক সময়ই ম্যাচের পরেও খেলোয়াড়দের মনে থেকে যায়। বিসিসিআইয়ের স্পষ্ট অবস্থান থেকে এটি প্রমাণিত যে, হ্যান্ডশেক করা সম্পূর্ণভাবে একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। একে কোনো জোরপূর্বক নিয়মে পরিণত করা হয়নি। তাই মাঠের এই ধরনের খণ্ডচিত্র বা আবেগের বহিঃপ্রকাশকে মাঠের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং বিষয়টিকে অযথা বড় করে বিতর্ক তৈরি করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।