Wyatt-Hodge expects ‘fireworks’ from Dunkley as World Cup pressure mounts
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মঞ্চে সোফিয়া ডাঙ্কলির ওপর আস্থা ওয়াইট-হজের
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের ওপেনিং জুটির অন্যতম ভরসা ড্যানি ওয়াইট-হজ তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সতীর্থ সোফিয়া ডাঙ্কলির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরেও ডাঙ্কলি নিজের ছন্দ ফিরে পেতে লড়াই করছেন, তবে ওয়াইট-হজ নিশ্চিত যে বড় ইনিংস খুব দ্রুতই আসছে।
ডাঙ্কলির পারফরম্যান্স ও প্রত্যাশা
সোফিয়া ডাঙ্কলি এই গ্রীষ্মে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সাতটি ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ছয়বারই তিনি দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করলেও বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারেননি। সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৩১। ভারতের বিপক্ষে ব্রিস্টলে খেলা সর্বশেষ ম্যাচে তিনি ১৪ বলে ১০ রান করেন, যেখানে তার একমাত্র বাউন্ডারিটি ছিল অরুন্ধতী রেড্ডির বলে একটি দারুণ ছক্কা। তবে ওয়াইট-হজ মনে করেন, ডাঙ্কলির আগ্রাসী ব্যাটিং ধরনই ইংল্যান্ডের জন্য আসল অস্ত্র।
ওয়াইট-হজ বলেন, ‘আমরা অনেক বছর ধরে একসঙ্গে ওপেন করছি। সোফিয়া কী করতে পারে তা আমরা সবাই জানি। প্রথম বল থেকেই প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা তার সহজাত বৈশিষ্ট্য। যদিও পিচ বা বলের নড়াচড়ার সময় এটি কঠিন, কিন্তু সে এই পজিশনে দারুণ সফল।’
নতুন চ্যালেঞ্জ ও দলের ভারসাম্য
ড্যানি ওয়াইট-হজ মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারেননি। এই সময়ে অ্যালিস ক্যাপসি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন, বিশেষ করে ডার্বিতে অপরাজিত ৭৪ রানের ইনিংসটি ছিল প্রশংসনীয়। এদিকে অধিনায়ক ন্যাট সিভার-ব্রান্ট ইনজুরি থেকে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এমন কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে ডাঙ্কলির জন্য নিজেকে প্রমাণ করাটা এখন সময়ের দাবি।
মাঠের বাইরে ওয়াইট-হজের ব্যক্তিগত আনন্দ
পেশাদার ক্রিকেটের চাপের মাঝে ওয়াইট-হজ ব্যক্তিগত জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। ১২ দিন আগে তার কন্যাসন্তান ডেইজির জন্ম হয়েছে। মাতৃত্বের এই নতুন অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘অবিশ্বাস্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, তার স্ত্রী জর্জি ও সন্তান দুজনেই ভালো আছেন এবং ডেইজি এখন দলের নতুন সমর্থক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ক্রিকেটের বাবল থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পুনরায় খেলায় মনোযোগ দেওয়াটা তার জন্য এখন বড় লক্ষ্য।
বিশ্বকাপের চাপ ও ইংল্যান্ডের লক্ষ্য
আগামী ১২ জুন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় প্রত্যাশার চাপ যে স্বাভাবিকভাবেই বেশি, তা মেনে নিচ্ছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। ওয়াইট-হজ ২০১৭ সালের বিশ্বকাপ জয়ের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতা সব সময়ই বিশেষ কিছু। আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই এবং প্রতিটি সুযোগকে উপভোগ করতে চাই।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা জানি আমাদের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে, তবে আমরা যদি আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারি এবং প্রতিটি ম্যাচকে আলাদা গুরুত্ব দিই, তবে সাফল্য আসবেই। আমরা লর্ডসের ফাইনালের কথা মাথায় রেখে এগোচ্ছি না, বরং প্রতিটি ট্রেনিং সেশন এবং প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সমীহ করে আমাদের লক্ষ্য স্থির রাখছি।’
ইংল্যান্ড দলের বর্তমান আবহ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং শান্ত। বিশ্বকাপের আগে দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। ওয়াইট-হজের মতে, সোফিয়া ডাঙ্কলির বর্তমান ইতিবাচক মানসিকতা এবং তার ব্যাটিংয়ে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রবণতা ইংল্যান্ডের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। আসন্ন ম্যাচগুলোতে ডাঙ্কলির ব্যাট থেকে বড় স্কোর দেখার অপেক্ষায় পুরো দল।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রায় সোফিয়া ডাঙ্কলি এবং ড্যানি ওয়াইট-হজের জুটি আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ওয়াইট-হজের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সমর্থন ডাঙ্কলির আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। মাঠের খেলায় সেই কাঙ্ক্ষিত ‘ফায়ারওয়ার্কস’ বা ঝড়ো ইনিংস দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ইংল্যান্ড ক্রিকেটপ্রেমী মহল।