Zak Crawley channels England disappointment into match-winning 75* – ইংল্যান্ডের হতাশা কাজে লাগিয়ে ম্যাচ জেতানো ৭৫* রান জ্যাক ক্রলির
ক্যান্টারবারিতে অনুষ্ঠিত ভাইটালিটি ব্লাস্টের এক উত্তেজনাপূর্ণ এবং কিছু বিতর্কিত ম্যাচে কেন্ট স্পিটফায়ার্স সাসেক্সকে সাত উইকেটে পরাজিত করেছে। এই জয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন কেন্টের ওপেনিং ব্যাটসম্যান জ্যাক ক্রলি, যিনি এক অসাধারণ অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। তাঁর এই ইনিংসটি কেবল ম্যাচ জেতাতেই সাহায্য করেনি, বরং তাঁর সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড দলের হয়ে খেলার হতাশা কাটিয়ে ওঠার এক দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।
ভাইটালিটি ব্লাস্টে সাসেক্সের বিস্ফোরক শুরু
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সাসেক্স। তাদের শুরুটা ছিল রীতিমতো বিস্ফোরক। ওপেনার টম ক্লার্ক মাত্র ২৯ বলে ৭৯ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি ছয়টি ছক্কা এবং নয়টি চার হাঁকান। চতুর্থ ওভারে ম্যাট মিলনেসের বলে ২২ রান তুলে ক্লার্ক মাত্র ২০ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। টম রজার্সের ষষ্ঠ ওভার থেকে আসে ৩০ রান, যার ফলে পাওয়ারপ্লে শেষে সাসেক্সের স্কোর দাঁড়ায় ৯২ রান বিনা উইকেটে। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, সাসেক্স অনায়াসে ২০০ রানের গন্ডি পেরিয়ে যাবে। তাদের ওপেনিং জুটি এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে কেন্টের বোলাররা শুরু থেকেই চাপে পড়ে যান। দর্শকদের জন্য এটি ছিল এক দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনী, যেখানে বল বারবার বাউন্ডারি পেরিয়ে যাচ্ছিল।
কেন্টের প্রত্যাবর্তন: বল হাতে ফরেস্টারের জাদু
তবে, কেন্ট তাদের বোলিং আক্রমণে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়, বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার দিয়ান ফরেস্টারের হাত ধরে। কেন্টের হয়ে নিজের অভিষেকেই তিনি মাত্র ২৫ রান খরচায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। সাসেক্সের লাগামহীন স্কোরিংয়ে রাশ টানতে ফরেস্টারের এই পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত জরুরি। কেন্টের আরেক অভিষিক্ত ক্রিকেটার বার্টি ফোরম্যানও উইকেট শিকারের তালিকায় নাম লেখান, যখন ক্লার্ক তাঁর বলে তাওয়ান্ডা মুয়েয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ক্লার্কের বিদায়ের পর রানের গতি কিছুটা কমে আসে। ফরেস্টার তাঁর তৃতীয় বলেই সফল হন, যখন ড্যানিয়েল হিউজেস ২৬ রানে ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ডের হাতে ক্যাচ দেন।
ফরেস্টারের পরবর্তী ওভারটি ছিল আরও চমকপ্রদ – একটি ডাবল-উইকেট মেডেন। তিনি জন সিম্পসনকে মাত্র চার রানে জো ডেনলির হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন, এবং এর পরের বলেই টম অ্যালসপের ক্যাচ নিজেই ধরে আউট করেন। হ্যাটট্রিক বল জ্যাক লিনিং ব্লক করে দেন, কিন্তু সাসেক্সের রানের গতিতে এর মধ্যেই অনেকটা ভাটা পড়ে যায়। ১৫ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৯ রানে ৪ উইকেট। ম্যাট মিলনেস জেমস কোলসের ২৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি তুলে নেন। ড্যানি ল্যাম্ব ১৯তম ওভারে ফ্রেড ক্লাসসেনের বলে ১৭ রান তুলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু লিনিং ৩০ রানে মুয়েয়ের হাতে ধরা পড়েন। শেষ ওভারে মিলনেস মাত্র চার রান দেওয়ায় সাসেক্স ১৯৭ রান ৬ উইকেটে শেষ করে, যা একসময় মনে হচ্ছিল অনেক কম।
কেন্টের পাল্টা জবাব এবং ক্রলির প্রতিরোধ
১৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কেন্টের শুরুটা ধাক্কা খায়। তাওয়ান্ডা মুয়েয়ে ২৬ রানে হেনরি ক্রোকম্বের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ড ২৭ রানে ব্যাট করার সময় ক্রলির এক শক্তিশালী শটে তাঁর কাঁধে আঘাত লাগে। যদিও তিনি খেলার অনুমতি পান, কিন্তু মাত্র দুই রান যোগ করার পর ড্যানি ব্রিগসের বলে টাইমাল মিলসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। কেন্টের ইনিংসে জ্যাক ক্রলি ছিলেন এক অবিচল স্তম্ভ, যিনি একদিক ধরে রেখেছিলেন।
ক্রলিকে অবশ্য মাঝে মাঝে ভাগ্যের সাহায্য নিতে হয়েছে। তিনি যখন নয় রানে ব্যাট করছিলেন, তখন ল্যাম্বের বলে জন সিম্পসন তাঁকে স্টাম্প করার সুযোগ হাতছাড়া করেন। ফিন হাডসন-প্রেন্টিস স্যাম বিলিংসকে ২৮ রানে আউট করেন, যখন তিনি ল্যাম্বের হাতে ক্যাচ দেন। ক্রলি ৪২ রানে ব্যাট করার সময় অ্যালসপের হাত থেকে এক কঠিন ক্যাচ ফসকে যায়, যা ছক্কা হয়ে যায়। ব্রিগসের বলে এক রান নিয়ে তিনি নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। এই সব ঘটনা ক্রলির ইনিংসকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে এবং দলের জন্য তাঁর উপস্থিতির গুরুত্ব প্রমাণ করে।
বিতর্কিত মুহূর্ত এবং ক্রলির ম্যাচ জেতানো ঝড়
ম্যাচের ১৭তম ওভারে এক বড় বিতর্ক জন্ম নেয়। কেন্টের জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে ৪০ রান দরকার ছিল। জ্যাক ক্রলি টাইমাল মিলসের বলে মিডউইকেটে টম ক্লার্কের হাতে ক্যাচ দেন। সাসেক্সের খেলোয়াড়রা জোরালো আবেদন জানায় যে এটি পরিষ্কার ক্যাচ ছিল। তবে, ক্রলি, যিনি তখন ৫৩ রানে ব্যাট করছিলেন, নিজের জায়গায় অনড় থাকেন এবং আম্পায়াররা তাঁকে নট-আউট ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্ত সাসেক্সের খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
আম্পায়ারের এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ক্রলিকে সাসেক্সের সমর্থকরা দুয়ো দিতে শুরু করে। কিন্তু এই ঘটনা যেন তাঁকে আরও বেশি করে উজ্জীবিত করে তোলে। তিনি ল্যাম্বের ১৮তম ওভারে ব্যাট করতে এসে তাঁর মাথার উপর দিয়ে পরপর তিনটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। প্রথম ছক্কাটি তিনি সোজা ব্যাট দিয়ে মারেন, এরপর আরেকটি ছক্কা কাও কর্নার দিয়ে এবং তৃতীয়টি আবার মাথার উপর দিয়ে। এই অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনী কেন্টকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসে এবং দুয়ো দেওয়া সমর্থকদের চিৎকার মুহূর্তেই কেন্টের সমর্থকদের উল্লাসে চাপা পড়ে যায়। ক্রলির এই আগ্রাসী মনোভাব ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেয়।
দিয়ান ফরেস্টারের জয়সূচক রান
ক্রলির ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পর শেষ দুই ওভারে কেন্টের জয়ের জন্য মাত্র দুই রান প্রয়োজন ছিল। দিয়ান ফরেস্টার, যিনি বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন, ব্যাট হাতেও নিজের সেরাটা প্রমাণ করেন। তিনি মিলসের বলে একটি চার মেরে কেন্টকে সাত উইকেটে এক দারুণ জয় এনে দেন, যখন খেলা শেষ হতে আরও ১০ বল বাকি ছিল। ফরেস্টারের এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স তাঁকে কেন্টের জার্সি গায়ে এক স্মরণীয় অভিষেক উপহার দেয়। ক্রলির দায়িত্বশীল এবং আগ্রাসী ইনিংস, ফরেস্টারের অলরাউন্ড দক্ষতা এবং দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কেন্ট স্পিটফায়ার্সকে এই গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দেয়। এই ম্যাচটি ভাইটালিটি ব্লাস্টের ইতিহাসে এক স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যেখানে বিতর্ক এবং অসাধারণ ক্রিকেটীয় দক্ষতার এক অসাধারণ মিশ্রণ দেখা গেছে।