Ahead of Afghanistan Test, Kuldeep gets a ‘feel of the red ball’ after underwhel: ভারতীয় স্পিনারের লাল বলের মিশন
টি-টোয়েন্টি থেকে লাল বলের ক্রিকেটে ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জ
আইপিএলের মতো জমকালো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায় ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। ভারতের তারকা বাঁহাতি রিস্টস্পিনার কুলদীপ যাদবের মতে, আইপিএল থেকে সরাসরি লাল বলের টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে আসা মোটেই সহজ কাজ নয়। তবে নিউ চণ্ডীগড়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন একমাত্র টেস্ট ম্যাচের আগে ভারতীয় দল পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে তিনি আশাবাদী।
দীর্ঘদিন ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকার পর লাল বলের অনুভূতি ফিরে পাওয়া যেকোনো বোলারের জন্যই একটি মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক পরীক্ষা। এই রূপান্তর পর্বে খেলোয়াড়দের ধৈর্য এবং দক্ষতার এক অনন্য পরীক্ষা দিতে হয়। কারণ, যেখানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রতি বলে উইকেট নেওয়ার বা রান আটকানোর তাগিদ থাকে, সেখানে টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্য ধরে সঠিক জায়গায় বল করে যাওয়া এবং ব্যাটসম্যানকে ভুল করতে বাধ্য করাই মূল চাবিকাঠি।
আইপিএল ২০২৬-এর পারফরম্যান্স এবং কুলদীপের লাল বলের অনুশীলন
কুলদীপ যাদবের জন্য আইপিএল ২০২৬ মরশুমটি খুব একটা সুখকর ছিল না। দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে ১২টি ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি মাত্র ১০টি উইকেট নিতে সক্ষম হন। এই মরশুমে তার বোলিং গড় ছিল ৩৮.১০ এবং ইকোনমি রেট ছিল ১০.২৯, যা তার স্বাভাবিক পারফরম্যান্সের তুলনায় বেশ হতাশাজনক। দিল্লি ক্যাপিটালস প্লে-অফে কোয়ালিফাই করতে না পারায় কুলদীপ একটু আগেভাগেই আইপিএল সফর শেষ করতে বাধ্য হন। তবে এই ব্যর্থতার মধ্যেও তিনি লাল বলের প্রস্তুতির জন্য একটি বড় সুযোগ খুঁজে পেয়েছেন।
আইপিএল থেকে দ্রুত বিদায় নেওয়ার ফলে লাল বলের ক্রিকেটে মনোনিবেশ করার জন্য কুলদীপ অতিরিক্ত সময় পেয়ে যান। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সৌভাগ্যবশত, আমি প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়েছি। আমি অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন কঠোর অনুশীলন করেছি এবং লাল বলের আসল অনুভূতি ফিরে পেয়েছি। টি-টোয়েন্টিতে বোলারদের মানসিকতা সবসময় আক্রমণাত্মক থাকে। সেখানে প্রতি মুহূর্তে ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করার চিন্তা মাথায় ঘোরে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে একজন ব্যাটসম্যানের ক্রিজে সেট হওয়ার জন্য প্রচুর সময় থাকে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দলের কিছু খেলোয়াড় আইপিএল ফাইনাল খেলে সরাসরি এই টেস্ট স্কোয়াডে যোগ দিচ্ছেন। তাদের প্রস্তুতির জন্য হয়তো খুব বেশি সময় নেই। তবে আমি নিশ্চিত যে তারা নিজেদের মতো করে সেরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। হ্যাঁ, এটি অবশ্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তবে আমি আত্মবিশ্বাসী যে সবাই খুব দ্রুত এই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।”
সিনিয়র স্পিনারের অনুপস্থিতি এবং ভারতীয় স্কোয়াডের তরুণ মুখ
বর্তমান ভারতীয় টেস্ট স্কোয়াডে স্পিন বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অভিজ্ঞ আর অশ্বিন ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। অন্যদিকে, রবীন্দ্র জাদেজাকে এই সিরিজের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং অক্ষর প্যাটেলকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি। এর ফলে ভারতীয় দলের স্পিন বিভাগ এখন অনেকটাই তরুণ এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তুলনামূলকভাবে অনভিজ্ঞ।
এই দলে বাঁহাতি স্পিনার হর্ষ দুবে এবং মানব সুতার প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। অন্যদিকে, কুলদীপ যাদব এবং অফস্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর দুজনেই মাত্র ১৭টি করে টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এই পরিস্থিতিতে কুলদীপকে দলের অন্যতম সিনিয়র স্পিনার হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তরুণ খেলোয়াড়দের দলে স্বাগত জানিয়ে কুলদীপ বলেন, “হ্যাঁ, জাড্ডু ভাই (রবীন্দ্র জাদেজা) দলে নেই, যিনি একজন নিয়মিত টেস্ট পারফর্মার। এই টেস্টে আমরা অক্ষর প্যাটেলকেও মিস করব। তবে আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো হয়েছে। ওয়াশিংটন সুন্দর এখন নিয়মিত টেস্ট ক্রিকেট খেলছে এবং সে দলের পরিবেশের সাথে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে।”
তরুণ স্পিনারদের মেন্টর হিসেবে কুলদীপ যাদব
দলে নতুন আসা হর্ষ দুবে এবং মানব সুতারের মতো তরুণদের সাহায্য করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত কুলদীপ যাদব। তিনি চান নতুন খেলোয়াড়রা যেন দলের সিনিয়রদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন এবং নিজেদের মেলে ধরতে পারেন।
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, “যখনই কোনো নতুন খেলোয়াড় দলে আসে, আমাদের প্রথম দায়িত্ব হলো তাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করানো। আপনি সবসময় চাইবেন সে যেন আপনাকে একজন প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং একজন সহযোগী বা পার্টনার হিসেবে দেখে। তার যদি কোনো সমস্যা থাকে, তবে সে যেন নির্দ্বিধায় আপনার সাথে কথা বলতে পারে এবং আপনাকেও তার পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত থাকতে হবে। গত দুই বছর ধরে এই তরুণ খেলোয়াড়রা (দুবে ও সুতার) নিয়মিত ইন্ডিয়া ‘এ’ দলের হয়ে সফর করছে। এছাড়া তারা নিয়মিত দলীপ ট্রফি এবং ইরানি ট্রফিতে খেলছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কিছুটা ঘাটতি থাকতে পারে, তবে প্রস্তুতি, ম্যাচ সচেতনতা বা লাল বলের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতার কথা বললে তারা একদম সঠিক অবস্থানে রয়েছে। কারণ তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচ খেলছে এবং সফল হচ্ছে।”
ধৈর্য ও মৌলিক কৌশল: পিচ এবং কন্ডিশন নিয়ে আলোচনা
নতুন স্পিন পার্টনারদের সাথে কেমন আলোচনা হয়, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কুলদীপ জানান যে তারা মূলত মৌলিক কৌশলগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। কন্ডিশন অনুযায়ী কীভাবে বল করতে হবে, তা তরুণদের বোঝানোই তার প্রধান লক্ষ্য।
কুলদীপ বলেন, “আমরা দল হিসেবে খুব খোলামেলা আলোচনা করি, বিশেষ করে কন্ডিশন নিয়ে। আমি যদি তরুণদের একটু পরখ করতে চাই, তবে পিচ, আবহাওয়া এবং দলের কৌশল সম্পর্কে তাদের মতামত জানতে চাই। আমাদের আলোচনা মূলত সাধারণ কিছু কৌশলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে—যেমন কোন লেন্থে বল করা উচিত, এই পিচে বলের গতি কেমন হওয়া দরকার এবং টেস্ট ক্রিকেটে স্পিনারদের কতটা ধৈর্যশীল হতে হবে। এই ফরম্যাটে ধৈর্যই শেষ কথা।”
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এই একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি ভারতের নতুন এবং তরুণ স্পিন ব্রিগেডের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। কুলদীপ যাদবের নেতৃত্বাধীন এই তরুণ স্পিন আক্রমণ কীভাবে আফগান ব্যাটসম্যানদের মোকাবেলা করে এবং লাল বলের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।