Phillips dedicates maiden Test hundred to late dad ‘watching in some stage’
টেস্ট ক্রিকেটে গ্লেন ফিলিপসের স্মরণীয় অর্জন
নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন গ্লেন ফিলিপস। টেস্ট ক্রিকেটে নিজের প্রথম শতক হাঁকিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায়। তবে এই সেঞ্চুরিটি শুধুমাত্র পরিসংখ্যানের পাতায় আটকে থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে এক গভীর আবেগঘন অনুভূতির প্রতিচ্ছবি। ফিলিপস তার এই বিশেষ অর্জনটি উৎসর্গ করেছেন তার প্রয়াত বাবা রোল্যান্ডকে, যিনি এক বছর আগে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। গ্লেন ফিলিপসের ভাষায়, Phillips dedicates maiden Test hundred to late dad ‘watching in some stage’—অর্থাৎ তিনি বিশ্বাস করেন তার বাবা ওপর থেকে সব দেখছেন।
তিন ফরম্যাটে অনন্য কৃতিত্ব
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে ফিলিপস নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং মার্টিন গাপটিল এই তালিকায় ছিলেন। ওভালের মাঠে জোফরা আর্চারের বলে অফ সাইডে শট খেলে যখন তিনি তিন অংকের ঘরে পৌঁছালেন, তখন তার চোখেমুখে ছিল স্বস্তির ছাপ। ব্যাট উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি যেন বাবাকেই স্মরণ করছিলেন। ফিলিপস জানান, বাবার মৃত্যুর প্রথম বার্ষিকীর ঠিক একদিন আগে এই অর্জনটি তাকে মানসিকভাবে অনেক বেশি শান্ত করেছে। টেস্ট ক্রিকেট তার বাবার প্রিয় ফরম্যাট ছিল, আর সেই ফরম্যাটেই সেঞ্চুরি করতে পারাটা তার জন্য এক পরম পাওয়া।
আর্চারের গতির বিরুদ্ধে লড়াই
ফিলিপসের এই সেঞ্চুরিটি ছিল মূলত ধৈর্য এবং সাহসের এক অসাধারণ মিশেল। বিশেষ করে জোফরা আর্চারের ভয়ংকর বাউন্সারের বিরুদ্ধে তার লড়াই ছিল দেখার মতো। অনেকবার তাকে দেখা গেছে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বাউন্সার এড়িয়ে যেতে। ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের হয়ে খেলার সময়ও আর্চারের বিরুদ্ধে এমন এক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। ফিলিপস বলেন, আর্চার অত্যন্ত গতির সাথে নিখুঁত বোলিং করছিলেন। এই লড়াইটি কেবল তার জন্য নয়, দর্শকদের জন্যও ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। তিনি স্বীকার করেন যে, মাঝে মাঝে এমন পরিস্থিতিতে হাসি মুখে লড়াই চালিয়ে যাওয়াই সেরা উপায়।
দলীয় দর্শনের প্রতি অবিচল আস্থা
ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যের দিকেই বেশি নজর ফিলিপসের। কেন উইলিয়ামসনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বলেন, “আমরা রান করি ঠিকই, কিন্তু এগুলো কখনোই পুরোপুরি আমাদের নয়। আমরা দলের রানের আমানতদার।” এই মানসিকতাই তাকে একজন দায়িত্বশীল ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলেছে। আইপিএলে গুজরাট টাইটানস থেকে বাদ পড়ার ছয় সপ্তাহ পর আবার মাঠে ফিরে এমন পারফরম্যান্স করা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি জানান, আইপিএলের সময় রেড বলের প্র্যাকটিস না থাকলেও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া এবং কঠোর পরিশ্রম তাকে এই সাফল্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উপসংহার
নিউজিল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট বরাবরই ফিলিপসের প্রতিভা ও অ্যাথলেটিক দক্ষতার ওপর আস্থা রেখেছে। দীর্ঘ সময় লোয়ার অর্ডারে ব্যাট করার পর এই সেঞ্চুরি প্রমাণ করে যে তিনি যে কোনো পজিশনে খেলার সক্ষমতা রাখেন। লর্ডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। বাবার প্রতি এই ভালোবাসা এবং ক্রিকেটের প্রতি নিবেদন তাকে ভবিষ্যতে আরও বড় উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার এই সেঞ্চুরি কেবল একটি ইনিংস নয়, বরং একজন সন্তানের তার বাবার প্রতি শেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য। ফিলিপস এখন সামনের দিনগুলোতেও দলের জন্য আরও বড় অবদান রাখার অপেক্ষায় আছেন।