Abbas, Dal wreck Lancashire before Montgomery cements Derbyshire advantage: কাউন্টি ক্রিকেটে ডার্বিশায়ারের দাপট
ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং ব্যর্থতার নতুন অধ্যায়
রোদসে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে চেস্টারফিল্ডের কুইন্স পার্ক গ্রাউন্ডে ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকল। গত সপ্তাহে কেন্টের বিপক্ষে মাত্র ৮৭ রানে অলআউট হওয়ার পর, এবার ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে প্রথম দিনেই মাত্র ১৬১ রানে গুটিয়ে গেছে তারা। ডার্বিশায়ারের পেস ও স্পিন আক্রমণের সামনে ল্যাঙ্কাশায়ারের কোনো ব্যাটারই ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। অলরাউন্ডার জর্জ ব্যাল্ডারসনের ৩৭ রানই ছিল ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংসে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ। বাকি ব্যাটাররা ডার্বিশায়ারের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেননি।
মোহাম্মদ আব্বাস ও অনুজ ডালের বোলিং তাণ্ডব
ডার্বিশায়ারের অধিনায়ক টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। সবুজ ঘাসে ঢাকা উইকেটে পেসারদের জন্য যথেষ্ট সাহায্য ছিল, আর তার পূর্ণ সুবিধা নেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ টেস্ট পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। আব্বাস তার প্রথম স্পেলেই ল্যাঙ্কাশায়ারের দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। ওপেনার কিটন জেনিংস তার মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই বেন আইচিসনের হাতে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন, তখন দলের রান ছিল মাত্র ৩। এরপর আব্বাস আরেকটি চমৎকার ইনসুইঙ্গারে মাইকেল জোন্সকে বোল্ড করে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে তার ৮৮৮তম উইকেট শিকার করেন।
ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপর্যয় আরও বাড়ে যখন জোশ বোহানন মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে বসেন। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার মার্কাস হ্যারিস কিছুটা aggression দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি অনুজ ডালের প্রথম ওভারের প্রথম পাঁচ বলের মধ্যে তিনটি চার মারেন। তবে অনুজ ডাল দ্রুতই প্রতিশোধ নেন এবং হ্যারিসকে চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে অফ-স্টাম্প উড়িয়ে দেন। উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে গোড়ালির লিগামেন্ট চোট পাওয়ার পর এটিই ছিল ডালের প্রথম ম্যাচ, আর প্রত্যাবর্তনটা তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন ৩ উইকেট নিয়ে।
কুইন্স পার্ক গ্রাউন্ডে কিংবদন্তিদের দ্বৈরথ
চেস্টারফিল্ডের কুইন্স পার্ক গ্রাউন্ডের মনোরম পরিবেশ এই ম্যাচের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। একদিকে ছিলেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি পেসার স্যার জেমস অ্যান্ডারসন এবং অন্যদিকে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস। বর্তমান বিশ্ব ক্রিকেটে খেলছেন এমন বোলারদের মধ্যে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিদের তালিকার শীর্ষে থাকা চার জনের মধ্যে এই দুজন অন্যতম। কুইন্স পার্কের হাজারো দর্শক এই দুই মহারথীর দ্বৈরথ দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। অ্যান্ডারসন যখন বল হাতে রান-আপ নিচ্ছিলেন, তখন দর্শকদের করতালি ছিল দেখার মতো।
মধ্যভাগের ধস ও আইচিসনের ক্যাপ প্রাপ্তি
উইকেটে বোলারদের জন্য সাহায্য থাকলেও লিয়াম লিভিংস্টোন যেভাবে আউট হয়েছেন, তার জন্য তিনি পিচকে দোষ দিতে পারবেন না। বেন আইচিসনের একটি ওয়াইড ডেলিভারিতে ড্রাইভ করতে গিয়ে তিনি স্লিপে ক্যাচ দেন। ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই কাউন্টি ক্যাপ পেয়েছিলেন আইচিসন, আর ম্যাচ চলাকালীন জো মুরসকে বোল্ড করে নিজের এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করেন তিনি। এর ফলে ল্যাঙ্কাশায়ার মাত্র ৭৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে। হ্যারি সিং এবং জর্জ ব্যাল্ডারসন মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে দলকে ১০০ রানের কোটা পার করান। তবে লাঞ্চের পর এই জুটি ভাঙার দায়িত্ব নেন অনুজ ডাল। মাত্র চার বলের ব্যবধানে তিনি হ্যারি সিং এবং থিতু হওয়া ব্যাল্ডারসন দুজনকেই সাজঘরে ফিরিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের বড় স্কোরের আশা শেষ করে দেন। শেষ দিকে জেমস অ্যান্ডারসন আব্বাসের বলে একটি অনবদ্য ড্রাইভ মেরে বাউন্ডারি ছাড়া করলেও ল্যাঙ্কাশায়ার বেশি দূর যেতে পারেনি। মিচেল স্ট্যানলি ররি হেইডনের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হলে ১৬১ রানে শেষ হয় ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংস। ডার্বিশায়ারের পক্ষে আব্বাস ও ডাল ৩টি করে উইকেট নেন।
মন্টগোমারির ব্যাট হাতে ডার্বিশায়ারের প্রতিরোধ
নিজেদের ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ডার্বিশায়ারও শুরুতেই ধাক্কা খায়। মিচেল স্ট্যানলি তার প্রথম ওভারেই হ্যারি কেমকে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। তবে লুইস রিস ও ম্যাথু মন্টগোমারি প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন। জেমস অ্যান্ডারসনের নতুন বলের স্পেলটি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খেলে পার করে দেন ডার্বিশায়ারের ব্যাটাররা। যদিও রিস ব্যক্তিগত স্কোরে আউট হয়ে যান ব্যাল্ডারসনের চমৎকার ক্যাচে, কিন্তু মন্টগোমারি এক প্রান্ত আগলে রেখে ডার্বিশায়ারকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যান। ম্যাথু মন্টগোমারি একদিকে যেমন রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলেন, অন্যদিকে বাজে বলগুলোকে সীমানা ছাড়া করতে ভুল করেননি। চা-পানের বিরতির সময় ডার্বিশায়ারের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ৭৫ রান। মন্টগোমারি ১০টি চারের সাহায্যে তার অর্ধশতক পূরণ করেন, যা ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের লাইনের ধারাবাহিকতার অভাব ফুটিয়ে তোলে। ক্যালেব জুয়েলও তাকে ভালো সঙ্গ দিচ্ছিলেন, কিন্তু স্ট্যানলির বলে বোল্ড হয়ে তিনি বিদায় নেন। এরপর মার্টিন অ্যান্ডারসনও জোশ বোহাননের বলে দ্রুত আউট হয়ে যান।
দিনের শেষ ভাগ ও ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি
দিনের শেষভাগে আলোকস্বল্পতার কারণে যখন খেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন ডার্বিশায়ারের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৯৭ রান। ম্যাথু মন্টগোমারি ৮৬ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলে ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের হতাশ করেন। তার এই দুর্দান্ত ইনিংসের ওপর ভর করেই ডার্বিশায়ার ইতিমধ্যে ৩৬ রানের লিড নিয়েছে। ক্রিজে ওয়েন ম্যাডসেনের উপস্থিতি ডার্বিশায়ারকে আগামী দিনে আরও বড় লিড নেওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। প্রথম দিনের বোলিং ও ব্যাটিং পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এই ম্যাচে ডার্বিশায়ার স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।