Patterson-White six-for has Essex on the rack – প্যাটারসন-হোয়াইট সিক্স-ফোর এসেক্সকে বিপাকে ফেলেছে: নটিংহ্যামশায়ারের দারুণ শুরু
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের আগের ম্যাচে সমারসেটের কাছে বিশাল ব্যবধানে পরাজয়ের পর, নটিংহ্যামশায়ার এবার নতুন উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নামে। চেলমসফোর্ডে এসেক্সের বিপক্ষে প্রথম দিনের খেলায় লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইটের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং পারফরম্যান্স তাদের সেই হারের রেশ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তার অসাধারণ বোলিংয়ে এসেক্স মাত্র ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা নটিংহ্যামশায়ারকে ম্যাচের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে। দিনের খেলা শেষে নটিংহ্যামশায়ার ২ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে, এসেক্সের থেকে মাত্র ৭৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
প্যাটারসন-হোয়াইটের ৬ উইকেট শিকার: এসেক্সের ব্যাটিং বিপর্যয়
রেইনথ্রোজ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নটিংহ্যামশায়ার গত সপ্তাহে সমারসেটের কাছে ৩০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছিল, যা ছিল তাদের এই মৌসুমের প্রথম পরাজয়। তবে, এই ম্যাচে লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলার জন্য যেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে এসেক্সের স্কোর যখন ২ উইকেটে ৮৭ রান, তখন থেকেই তিনি এসেক্সের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামানো শুরু করেন। মধ্যাহ্নভোজের পরের সেশনে তিনি একাই সাতটি উইকেটের মধ্যে পাঁচটি নিয়ে ক্যারিয়ার-সেরা ৬ উইকেটে ৪৩ রানের পরিসংখ্যান গড়েন। তার স্পিন বোলিংয়ের সামনে এসেক্সের ব্যাটসম্যানরা দাঁড়াতেই পারেননি।
উইকেটে কিছু ঘাস থাকলেও, বালুটে রঙের উইকেটে এসেক্স টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাদের ওপেনিং জুটি প্রথম রান সংগ্রহ করতে পঞ্চম ওভার পর্যন্ত সময় নেয়, যা উইকেটের ধীর প্রকৃতির ইঙ্গিত দেয়। ১৩ ওভারের মধ্যে মাত্র ৩১ রান সংগ্রহ করতে তারা দুটি উইকেট হারায়। ডিন এলগার, যিনি এই মৌসুমে ১৪ ইনিংসে ১১ বার ২০-এর নিচে আউট হয়েছেন, ব্রেট হাটনের একটি নিচু ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন। এরপর পল ওয়াল্টার অলি স্টোনের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
ক্যাপ্টেন টম ওয়েস্টলি অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি ৬৬ বলে ৪৪ রান করেন, যেখানে আটটি বাউন্ডারি ছিল। এর মধ্যে দুটি ছিল সরাসরি ব্যাটের মাঝখানে এবং একটি কভার দিয়ে। চার্লি অ্যালিসনের সাথে তার ৫৬ রানের জুটি ছিল এসেক্সের সবচেয়ে বড় জুটি, যেখানে অ্যালিসনের অবদান ছিল মাত্র ১৩। মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে প্যাটারসন-হোয়াইটের প্রথম শিকার হন ওয়েস্টলি, যখন তার একটি লিডিং এজ ডিপ স্লিপে ধরা পড়ে। ওয়েস্টলির এই আউট এসেক্সের পতনের সূচনা করে।
মধ্যাহ্নভোজের পর এসেক্সের চূড়ান্ত পতন
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর এসেক্সের ব্যাটিং বিপর্যয় আরও প্রকট হয়। চার্লি অ্যালিসন রানআউটের শিকার হন, যখন ম্যাট ক্রিচলি একটি ডেলিভারি খেলে পয়েন্টে হাসিব হামিদের দিকে ঠেলে দেন এবং হামিদ দ্রুত উইকেটরক্ষকের কাছে ফেরত পাঠান। এর পাঁচ বল পরেই ম্যাট ক্রিচলি ফার্গুস ও’নিলের একটি নিচু ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন। মাইকেল পেপার, যিনি এই মৌসুমে লাল বলের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে সংগ্রাম করছিলেন, তিনি পাল্টা আক্রমণাত্মক খেলার সিদ্ধান্ত নেন। ও’নিলের এক ওভারে দুটি দর্শনীয় কভার ড্রাইভ এবং প্যাটারসন-হোয়াইটের বলে দুটি সুইপ করে তিনি তার অভিপ্রায় স্পষ্ট করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্যাটারসন-হোয়াইটই তার প্রতিশোধ নেন, যখন পেপার একটি বল জ্যাম করে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন।
প্যাটারসন-হোয়াইট এরপর বাকি পাঁচটি উইকেটই নিজের ঝুলিতে পোরেন। সাইমন হার্মার বলের পিচে যেতে ব্যর্থ হয়ে অফ-স্টাম্প হারান। লুক বেনকেনস্টাইন অনুসরণ করা একটি বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন। শেন স্নাটার এবং চার্লি বেনেট নবম উইকেটে ৪৪ রানের একটি কার্যকর জুটি গড়লেও, বেনেট স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে শেন স্নাটার চতুর্থ ছক্কা মারতে গিয়ে বোল্ড হন, যার ফলে এসেক্স ১৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। স্নাটার প্যাটারসন-হোয়াইটকে তিনটি ছক্কা মেরেছিলেন, যা তার বোলিং ফিগারকে আরও চিত্তাকর্ষক হতে দেয়নি।
নটিংহ্যামশায়ারের দৃঢ় প্রত্যুত্তর: হামিদ অপরাজিত
প্যাটারসন-হোয়াইটের স্পিন জাদুর পর, এসেক্সের হয়ে স্পিন আক্রমণে আসেন সাইমন হার্মার, যদিও তিনি একই রকম সাফল্য পাননি। নটিংহ্যামশায়ার তাদের ইনিংসে সাত ওভার খেলার পরেই বেন স্লেটারকে হারায়, যিনি শেন স্নাটারের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন। ১৩ ওভার পর স্নাটার তার দ্বিতীয় উইকেটটি পান, যখন তিনি ফ্রেডি ম্যাককানের ব্যাটের বাইরের কিনারা ভেদ করে স্টাম্প ভেঙে দেন।
তবে, নটিংহ্যামশায়ারের ওপেনার হেসেব হামিদ অত্যন্ত সতর্ক ও দৃঢ়তার সাথে ব্যাটিং করেন। তিনি দিনের খেলা শেষে অপরাজিত ৬৮ রান নিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তার ইনিংসে দলের স্কোরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং মাত্র ৭৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলায় একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে। হামিদ, যিনি এই মৌসুমে রান পেতে সংগ্রাম করছিলেন, এই ইনিংসে তার ফর্ম ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার এই দৃঢ়তা নটিংহ্যামশায়ারকে প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেওয়ার আশা জোগাচ্ছে।
দিনের সমাপ্তি এবং দ্বিতীয় দিনের প্রত্যাশা
দিনের খেলা শেষে নটিংহ্যামশায়ারের স্কোর ২ উইকেটে ১১১ রান। হেসেব হামিদ (৬৮*) এবং জো কলার (৯*) অপরাজিত রয়েছেন। এসেক্সের বোলাররা দিনের শেষ ভাগে আরও উইকেট নিতে ব্যর্থ হন, যা নটিংহ্যামশায়ারকে কিছুটা স্বস্তি দেয়। দ্বিতীয় দিনে নটিংহ্যামশায়ারের লক্ষ্য থাকবে এসেক্সের স্কোরকে ছাড়িয়ে একটি বড় লিড নেওয়া এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেওয়া। প্যাটারসন-হোয়াইটের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর, নটিংহ্যামশায়ার এখন একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং এই ম্যাচ থেকে জয়ের আশা করছে। এসেক্সকে যদি ম্যাচে ফিরতে হয়, তবে তাদের বোলারদের অসাধারণ কিছু করে দেখাতে হবে এবং দ্রুত উইকেট তুলতে হবে। এই কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচটি দ্বিতীয় দিনে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।