England brace for new beginnings as old failings take back seat
নতুন যুগে পদার্পণ: অ্যাশেজের স্মৃতি কি ফিকে হয়ে আসছে?
ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক ঠাসা সূচির তুলনায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই টেস্টের জন্য অপেক্ষাটা ছিল বেশ দীর্ঘ। এটি এমন এক নতুন যুগের প্রথম টেস্ট, যেখানে সবকিছু ভিন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে অনেক কিছুই অপরিবর্তিত থেকে গেছে। জানুয়ারি মাসে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বেন স্টোকসের বিধ্বস্ত দলকে অস্ট্রেলিয়ার সেই চেনা উৎসবের সাক্ষী হতে হয়েছিল। ভক্তদের কাছে সেই ক্ষত এখনো দগদগে, কারণ তাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি, কিন্তু প্রাপ্তি ছিল কেবল হতাশাজনক পারফরম্যান্স।
পুরোনো বিতর্ক বনাম নতুন কৌশল
মাঝখানের এই দীর্ঘ বিরতি অ্যাশেজ-পরবর্তী উত্তপ্ত আলোচনাগুলোকে কিছুটা হলেও স্তিমিত করেছে। ওয়েলিংটন বা নুসার মতো জায়গায় পানীয় সংক্রান্ত বিতর্কগুলো এখন আলোচনার আড়ালে। স্টোকস এবং ম্যাককালামের মধ্যকার বোঝাপড়ার ঘাটতি বা জফরা আর্চারের আইপিএল ও কেন্দ্রীয় চুক্তির জটিলতা নিয়েও এখন আর তেমন শোরগোল শোনা যায় না। ইংল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট তাদের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণার মাধ্যমে অনেক পুরোনো বিতর্ককে আলোচনার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
স্টোকস ও ম্যাককালামের প্রথম চার বছরের সেই রোমাঞ্চকর ‘বেসবল’ ঘরানার ক্রিকেট থেকে কিছুটা সরে এসে এখন দলটির মনোযোগ সম্ভবত টিকে থাকা এবং বিবর্তনের দিকে। স্টোকস তার সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবেই বলেছেন, দীর্ঘ আলোচনার দিন শেষ, এখন মাঠে পারফরম্যান্সের সময়।
নিউজিল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজটি ইংল্যান্ডের নতুন মানসিকতার একটি আসল পরীক্ষা। ২০২২ সালের সেই রোমাঞ্চকর সিরিজের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই, যেখানে বেসবল ঘরানার ক্রিকেটের উন্মাদনা ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সংস্কৃতিকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছিল। আবার ২০১৫ সালে লর্ডসে স্টোকস ও রুটের সেই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের কথাও ভুলে যাওয়ার মতো নয়। তবে এবার ইংল্যান্ডের লক্ষ্য কেবল বিনোদন নয়, বরং বিশুদ্ধ জয়।
দলের পরিবর্তন ও ওলি রবিনসনের প্রত্যাবর্তন
ইংল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এবার কিছুটা রক্ষণশীল পথে হেঁটে ওলি রবিনসনকে দলে ফিরিয়ে এনেছে। যদিও তার শৃঙ্খলা নিয়ে অতীতে প্রশ্ন উঠেছিল, তবে ২০ টেস্টে ২২.৯২ গড়ে উইকেট শিকারি এই বোলার দলের প্রয়োজনে অপরিহার্য। এটি প্রমাণ করে যে, ইংল্যান্ড এখন কেবল ‘ভাইবস’ নয়, বরং কার্যকারিতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এমিলিও গে এবং কেন উইলিয়ামসন: দুই মেরুর দুই তারকা
ব্যাটিং অর্ডারে এমিলিও গে-র অন্তর্ভুক্তি ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রতি নতুন সম্মানের বহিঃপ্রকাশ। কাউন্টি ক্রিকেটে তার দুর্দান্ত ফর্ম ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে পারে। অন্যদিকে, কেন উইলিয়ামসন তার ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে। লর্ডসে তার অভিজ্ঞতা নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। উইলিয়ামসন সম্ভবত শেষবারের মতো ইংল্যান্ডে টেস্ট খেলতে নেমেছেন, যা লর্ডসের দর্শকদের জন্য একটি আবেগের মুহূর্ত হতে পারে।
দলের সম্ভাব্য একাদশ ও আবহাওয়া
ইংল্যান্ড তাদের স্কোয়াড ১২ জনে নামিয়ে এনেছে। গাস অ্যাটকিনস এবং ওলি রবিনসনের মতো বোলাররা লর্ডসের কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারেন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের লম্বা কাইলি জেমিসন এবং উইল ও’রুর্কের জুটি ইংল্যান্ডের জন্য বড় হুমকি। লর্ডসের আকাশ মেঘলা এবং কন্ডিশন কিছুটা সজীব হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পেসাররাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।
পরিসংখ্যান ও তথ্য
- এমিলিও গে ২০২২ সালের পর ইংল্যান্ডের প্রথম নতুন ওপেনার হিসেবে টেস্ট অভিষেক করতে যাচ্ছেন।
- লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের জয়ের রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়; ১৯৩১ সাল থেকে মাত্র একবারই তারা এখানে জয় পেয়েছে।
- বেন স্টোকস তার ২৫০তম টেস্ট উইকেটের মাইলফলক থেকে মাত্র পাঁচটি উইকেট দূরে।
- এটি লর্ডসের ১৫০তম টেস্ট ম্যাচ, যা বিশ্বের যেকোনো ভেন্যুর চেয়ে বেশি।
পরিশেষে, বেন স্টোকসের দলের জন্য এই সিরিজটি কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই। যদি তারা এই নতুন কৌশলে সফল হয়, তবেই সমালোচকদের মুখ বন্ধ হবে। আর যদি না হয়, তবে স্টোকসের সেই ‘কথা বলা বন্ধ’-এর দিনগুলো হয়তো শেষ হতে এখনো অনেক দেরি!