Jordan Cox celebrates Test call-up with unbeaten 184
টেস্ট দলের ডাকের যথাযথ উত্তর দিলেন জর্ডান কক্স
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পাওয়া যেকোনো ক্রিকেটারের জন্য স্বপ্নের মতো। আর সেই স্বপ্নপূরণের ঠিক পরেই যদি ব্যাটে রানের ফোয়ারা ছোটে, তবে তার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? জর্ডান কক্স ঠিক সেই কাজটাই করলেন। লেস্টারশায়ারের বিপক্ষে এসেক্সের হয়ে মাঠে নেমে তিনি খেললেন ১৮৪ রানের এক অপরাজিত ইনিংস। তার এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করেই এসেক্স বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করে নিয়েছে।
দলের বিপর্যয়ে ত্রাতা কক্স
আপটনস্টিল গ্রেস রোডের পিচটি ছিল বেশ সবুজ। টস জিতে এসেক্সকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লেস্টারশায়ার অধিনায়ক। শুরুতে বৃষ্টির কারণে মাঠ ভেজা থাকায় প্রথম সেশনের খেলা পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়। খেলা শুরুর পর এসেক্সের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র ৮ রানেই তারা ২ উইকেট হারিয়ে বসে। দলের এমন কঠিন মুহূর্তে হাল ধরেন জর্ডান কক্স। মাত্র ৭৩ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করে তিনি জানান দেন, কেন নির্বাচকরা তাকে টেস্ট দলের জন্য বিবেচনা করেছেন। তার ইনিংসে ছিল ১৪টি চার এবং দুটি বিশাল ছক্কা।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান
দিনশেষে এসেক্সের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫ উইকেটে ৩৪২ রান। কক্সের ১৮৪ রানের পাশাপাশি ম্যাট ক্রিচলি খেলেছেন ৯৭ রানের চমৎকার একটি ইনিংস। তাদের দুজনের পার্টনারশিপ লেস্টারশায়ার বোলারদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে, ৮ রানের মাথায় ২ উইকেট পড়ার পর যেভাবে কক্স এবং টম ওয়েস্টলি ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন, তা ছিল দেখার মতো।
কেন এই ইনিংসটি বিশেষ?
- আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা: কক্স ইতিপূর্বে ইংল্যান্ডের হয়ে তিনটি ওয়ানডে এবং ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
- ফর্মের ধারাবাহিকতা: গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম রেড-বল ক্রিকেটে নেমেও তিনি তার সহজাত ব্যাটিং বজায় রেখেছেন। এটি ছিল তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের ৬৩তম ম্যাচে ১২তম সেঞ্চুরি।
- মাইলফলক: এই ইনিংসের মাধ্যমেই তিনি তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।
লেস্টারশায়ারের ব্যর্থতা ও এসেক্সের দাপট
লেস্টারশায়ার বোলাররা শুরুতে কিছুটা সাফল্যের দেখা পেলেও, সময়ের সাথে সাথে তারা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। ফিল্ডিংয়েও তাদের ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাট ক্রিচলি এবং জর্ডান কক্স—দুজনকেই তারা জীবন দিয়েছে, যার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছেন এই ব্যাটাররা। বোলারদের অগোছালো বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে এসেক্সের রান তোলার গতি ছিল দেখার মতো।
সামনের পথচলা
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন ২৫ বছর বয়সী কক্স। বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনস দলে না থাকায় কক্সের এই সুযোগটি ছিল বড় এক চ্যালেঞ্জ। তবে কাউন্টি ক্রিকেটে তার এই দুর্দান্ত ফর্ম আসন্ন টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের জন্য বড় ভরসা হতে পারে। এসেক্সের জন্য এই ম্যাচে এখন বড় স্কোরের লক্ষ্য, যা তাদের প্রতিপক্ষকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে।
গ্রেস রোডের এই পিচে কক্সের ব্যাটিং ছিল শিল্প ও শক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ। বৃষ্টি বাধা দিলেও তার মনোযোগে কোনো ঘাটতি ছিল না। এখন দেখার বিষয়, টেস্ট ক্রিকেটে সুযোগ পেলে তিনি তার এই দুর্দান্ত ফর্ম কতটা ধরে রাখতে পারেন। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন ওভালের দিকে, যেখানে হয়তো সাদা পোশাকে অভিষেক হতে চলেছে এই প্রতিভাবান ক্রিকেটারের।