‘Every team prepares pitches that suit them’ – Shaheen defends Pakistan pitches
ঘরের মাঠে পিচ বিতর্ক ও শাহিন আফ্রিদির অবস্থান
পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার সদ্য সমাপ্ত তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজটি মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল পিচের ধরণ নিয়ে। রাওয়ালপিন্ডি এবং লাহোরের ভেন্যুগুলোতে পাকিস্তান দল এমন সব পিচ তৈরি করেছিল যা স্পিনারদের জন্য সহায়ক এবং বল ব্যাপকভাবে টার্ন করছিল। মূলত সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার শক্তির জায়গাগুলোকে দুর্বল করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতেই এমন কৌশল গ্রহণ করেছিল পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট।
এই সিরিজের পর একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—আগামী ওডিআই বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই ধরণের পিচ কতটা কার্যকর? দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপে ফাস্ট বোলিং সহায়ক পিচ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, অথচ পাকিস্তান খেলল স্পিন-নির্ভর উইকেটে। এ নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি সরাসরি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘Every team prepares pitches that suit them’ – Shaheen defends Pakistan pitches।
অধিনায়কের যুক্তি
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শাহিন আফ্রিদি জানান, ‘বিশ্বকাপের এখনো ১৫ মাস বাকি। যখন কোনো দল তাদের ঘরের মাঠে খেলে, তখন তারা জেতার জন্য নিজেদের অনুকূল পিচ তৈরি করবে—এটিই স্বাভাবিক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডে আমাদের টেস্ট সিরিজ রয়েছে, সেখানে খেলোয়াড়রা সেই পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। যখন আমরা অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিলাম, তখন গ্রিন ও বাউন্সি পিচে খেলেও আমরা সিরিজ জিতেছিলাম। কিন্তু এখন যখন সফরকারী দল আমাদের দেশে আসছে, তখন আমরা অবশ্যই আমাদের জেতার জন্য সেরা সুযোগটিই বেছে নেব।’
শাহিন মনে করেন, এই চ্যালেঞ্জিং উইকেটগুলো ব্যাটারদের ধৈর্য ও কৌশল পরীক্ষার জন্য দারুণ ছিল। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন কন্ডিশন ও পিচের ধরণ নিয়ে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাবেন।
তরুণ তুর্কি ও অভিজ্ঞদের সংমিশ্রণ
এই সিরিজে পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের পরখ করে দেখা। আরাফাত মিনহাস এই সিরিজের মাধ্যমে ওডিআই ক্রিকেটে পা রাখেন এবং অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট শিকার করে ইতিহাস গড়েন। তিনি পুরো সিরিজে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ নির্বাচিত হন। তবে দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অভিজ্ঞ শাদাব খানের ওপর আস্থা রাখা নিয়েও বিতর্ক ছিল।
শাদাব খানের পারফরম্যান্স নিয়ে শাহিন বলেন, ‘সবাই প্রশ্ন তুলেছিল কেন শাদাবকে বারবার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, চাপের মুখে ম্যাচ জেতানোর জন্য অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রাই সবচেয়ে বেশি কার্যকর। শাদাব দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ ব্যাটিং করেছেন এবং শেষ ম্যাচে বল হাতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে দুই উইকেট নিয়েছেন, যা প্রমাণ করে তার অভিজ্ঞতার গুরুত্ব।’
সামনের পথচলা
পাকিস্তান দলের সামনে এখন প্রায় দেড় মাসের বিরতি। এরপরই শুরু হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। সেখান থেকে সরাসরি ইংল্যান্ডে গিয়ে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাবর আজমের দল। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ দিয়ে অক্টোবর-নভেম্বর নাগাদ তারা আবারও সাদা বলের ক্রিকেটে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ওডিআই সিরিজের এই পিচ বিতর্ক কেবল একটি কৌশলগত আলোচনার বিষয় ছিল না, বরং ঘরের মাঠের সুবিধা কীভাবে কাজে লাগানো যায় তার একটি প্রদর্শনী ছিল। শাহিন আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান এখন সামনে তাকাচ্ছে এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য নিজেদের পরিকল্পনায় আরও বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ক্রিকেট বিশ্ব এখন অপেক্ষায় আছে আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তান তাদের এই কৌশল কতটুকু কার্যকর করতে পারে তা দেখার জন্য।