Prabhsimran, Gaikwad, Tilak score fifties in DLS loss to Afghanistan A
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও ফলাফল
শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করা ভারত ‘এ’ দল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ‘এ’ দলের মুখোমুখি হয়েছিল। ডাম্বুলায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ‘এ’ দল নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৪৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। তবে বৃষ্টির কারণে খেলা বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ডিএলএস (DLS) পদ্ধতিতে। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান ‘এ’ দল ৪ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে।
সূর্যবংশীর দুর্দান্ত শুরু
ভারতের ইনিংসের শুরুতেই নজর কেড়েছেন তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখানোর পর, আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিনি আরও বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। ইনিংসের প্রথম দুই বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি নিজের লক্ষ্য পরিষ্কার করে দেন। মূলত অফ সাইডকে লক্ষ্য করে খেলা সূর্যবংশী ৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২২ বলে ৪৪ রান করেন। দলীয় ৫০ রান আসে মাত্র ৪.৫ ওভারেই। যদিও তিনি অর্ধশতকের কাছে গিয়ে আউট হয়ে যান, তবে দলের জন্য একটি মজবুত ভিত্তি গড়ে দেন।
প্রভসিমরণের ব্যাটে রানের চাকা
সূর্যবংশীর বিদায়ের পর প্রভসিমরণ সিং দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তিনি শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন এবং মাঠের চারপাশ জুড়ে চমৎকার সব শট খেলেন। জহির খানের বলে মিড-অফের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ৩৯ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সাথে তার জুটি ছিল অত্যন্ত কার্যকর। প্রভসিমরণ শেষ পর্যন্ত ৮৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন, তবে তার এই ইনিংস ভারতকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
গায়কোয়াড় ও তিলকের নিয়ন্ত্রণ
অধিনায়ক তিলক ভার্মা এবং অভিজ্ঞ রুতুরাজ গায়কোয়াড় জুটি মধ্যবর্তী ওভারে রানের গতি সচল রাখেন। গায়কোয়াড় চমৎকার সব শট খেলে অর্ধশতক তুলে নেন। তিলক ভার্মাও নিজের ফর্ম অব্যাহত রেখে টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকান। তাদের এই জুটির ওপর ভর করেই ভারত ‘এ’ দল ৩৪৯ রানের বিশাল পাহাড় গড়ে তোলে। শেষ দিকে সূর্যংশ শেঠ এবং অনুকূল রায়ের ছোট ছোট অবদান ভারতকে এই বিশাল সংগ্রহে পৌঁছে দেয়।
বোলিংয়ে ব্যর্থতা ও বৃষ্টির প্রভাব
ভারত ‘এ’ দলের বোলাররা শুরুতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। আফগানিস্তানের ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। অর্শদ খান কিছু সুযোগ তৈরি করলেও ভারতীয় বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিতে ব্যর্থ হন। অনুকূল রায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও বিপরাজ নিগম ও আয়ুষ বাদোনি খুব একটা কার্যকর ছিলেন না। আফগানিস্তানের ইমরান মির (অপরাজিত ৭৫) এবং বাহির শাহ (অপরাজিত ৫১) দলের জয়ের পথ প্রশস্ত করেন। ৫টা ২৮ মিনিটের দিকে বৃষ্টি এবং খারাপ আলোর কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় আফগানিস্তান ‘এ’ ডিএলএস পদ্ধতিতে ৪ রানে এগিয়ে থাকায় তাদের জয়ী ঘোষণা করা হয়। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে ভালো করার প্রত্যাশা থাকবে ভারত ‘এ’ দলের।