Nayeem Hasan breaks down in tears while describing alleged police abuse
চট্টগ্রামে পুলিশি হয়রানির শিকার জাতীয় ক্রিকেটার নাইম হাসান
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাইম হাসান সম্প্রতি এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ম্যাচ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রামের পুলিশের হাতে তিনি কেবল হয়রানির শিকারই হননি, বরং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিজের জীবনের এই দুঃসহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। Nayeem Hasan breaks down in tears while describing alleged police abuse—এই শিরোনামটিই আজ খেলার মাঠের বাইরে ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
নাইম হাসান জানিয়েছেন, ডিপিএল ম্যাচ শেষে রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার জন্য তিনি একটি সিএনজি অটোরিকশা ব্যবহার করছিলেন। কিন্তু টোল প্লাজার কাছে পৌঁছাতেই ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা তাদের পথ আটকান। নাইম ভেবেছিলেন এটি রুটিন তল্লাশি। কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়। এসআই শফিক নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা কোনো কারণ ছাড়াই তাকে একটি গাড়িতে জোরপূর্বক তুলে নেন এবং দরজা আটকে দেন। নাইমকে ভয় দেখিয়ে বলা হয়, তিনি একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাকে চুপ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ
নাইমের ভাষ্যমতে, পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর তাকে শারীরিকভাবে নিগৃহীত করা হয়। এসআই শফিক তার গলা চেপে ধরেন এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা নাইমকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পুলিশ তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। নাইম বারবার নিজেকে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও এসআই শফিক উল্টো তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি বারবার বলেছি আমি জাতীয় দলের খেলোয়াড়, কিন্তু তারা কোনো কথাই শোনেনি। বরং আমাকে মারধর করা হয়েছে।”
থানায় যা ঘটেছিল
পরবর্তীতে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও ওসি’র সামনে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার পর তাকে অসম্মানজনক আচরণের সম্মুখীন হতে হয়। নাইম জানান, প্রথমে তাকে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছিল, কিন্তু এরপর যখন উচ্চপর্যায় থেকে ফোন আসতে শুরু করে, তখন পুলিশের আচরণের ভোল পাল্টে যায়। এই পুরো ঘটনাটি একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জন্য কতটা অপমানজনক এবং আতঙ্কজনক, তা তার কান্নার মাধ্যমেই ফুটে উঠেছে।
ক্রিকেট মহলে ক্ষোভ
একজন জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদের সাথে এমন আচরণে ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একজন নাগরিক হিসেবে এবং দেশের প্রতিনিধি হিসেবে নাইম হাসান যে ধরনের দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন, তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পেশাদারিত্ব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নাইম হাসান এখন বিচার ও যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, পরিচয় দেওয়ার পরও কেন তাকে এমন নৃশংসতার শিকার হতে হলো। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তই এখন সময়ের দাবি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ক্রীড়াবিদকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
উপসংহার
এই ঘটনাটি কেবল নাইম হাসানের একার নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একজন উদীয়মান টেস্ট ক্রিকেটার যখন রাস্তায় পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়—এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। নাইম হাসানের এই কান্না কেবল তার ব্যক্তিগত কষ্টের বহিঃপ্রকাশ নয়, এটি ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষারও প্রতিচ্ছবি।